বিজ্ঞাপন

এই তরুণেরা জানালেন, ঈদে নতুন নোটের প্রতি শিশু–কিশোরদের বেশ আকর্ষণ থাকে। কিন্তু ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ঈদসেলামি হিসেবে নতুন নোট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। বিষয়টি তাঁদের মনে দাগ কাটে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, বেতনের টাকা থেকে এবার তাঁরা কিছু টাকা আলাদা করে রাখবেন এবং সমমূল্যের নতুন নোট ঈদের দিন বিতরণ করবেন।

এই পাঁচজন গতকাল নামাজের পর বেদেপল্লিতে যান। সেখানে প্রায় ৪০ জন শিশু–কিশোরের হাতে ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত তুলে দেন। পরে যান উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে অবস্থিত একটি এতিমখানায়। সেখানে অর্ধশত শিশু–কিশোরের হাতে নতুন টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেওয়া হয় আরও ২০ জনকে।

তরুণেরা এতিমখানায় যখন যান, তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। নতুন নোট পাওয়ার পর এতিমখানার শিশু–কিশোরদের চোখেমুখেও অন্য রকম ঈদ আনন্দ স্পষ্ট হয়। শিক্ষার্থী হাসান (৭) পেয়েছে ৫০ টাকার একটি নোট। পাওয়ার পর এপিঠ–ওপিঠ করে নোট দেখছিল হাসান। কেমন লাগছে, জিজ্ঞেস করতেই হাসান উত্তর দিল, ‘ভালা।’ টাকা দিয়ে কী করবা, এমন প্রশ্নের উত্তর সে জানাল, ‘ঘুড়ি কিনুম আর আইসক্রিম খামু।’

নতুন নোট তুলে দেওয়ার মূল ভাবনা আসে সবুজের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘বাঙালির ঈদ আনন্দের একটি বড় অংশ সেলামি। বড়রা দেন, আর ছোটরা নেয়। দেওয়া ও নেওয়া, দুইয়ে আনন্দ। তবে সমাজে এমন কিছু শিশু–কিশোর আছে, যারা ঈদসেলামি এবং নতুন নোট পাওয়ার আনন্দ না নিয়েই বড় হয়। বঞ্চিত শিশু–কিশোরদের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছি আমরা। উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে সমাজের কিঞ্চিৎ অংশের ছোটদের কষ্ট লাঘব করতে পেরেছি মাত্র।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন