বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আনোয়ার উল আলম সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে একীভূত হন। তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হয়। কূটনীতিক হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি স্পেনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। চাকরিজীবনে যেখানে গেছেন, সেখানেই নিয়ে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দুর্লভ ছবি, যুদ্ধকালীন নানা দলিল–দস্তাবেজ।

আনোয়ার ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণের পর টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৈতৃক ভিটায় দোতলা ভবন নির্মাণ করেন। এই ভবনের নিচতলাতেই নিজের নামে ‘শহীদ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। দেশ–বিদেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন।

পারিবারিক কারণে জাদুঘরটি ওই স্থান থেকে নতুন স্থান শহরতলির এনায়েতপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন আনোয়ার। তিনি সেখানে নির্মাণকাজ শেষ করে যেতে পারেননি। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জাদুঘর নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, গ্রামীণ পরিবেশে একটি দোতলা বাড়ি। তার নিচতলার কক্ষগুলোতে সাজানো রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন। স্বাধীনতার আগে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত একুশের সংকলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনের চিত্র।

যুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব থেকে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের আত্মসমর্পণ ও বিজয় অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের আলোকচিত্র। আরও রয়েছে যুদ্ধ চলাকালীন ও বিজয়ের পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিবেদনের ছবি। মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় মুক্তাঞ্চল থেকে আনোয়ারের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘রাণাঙ্গন’ পত্রিকার কপি, মুক্তাঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দলিল, টাঙ্গাইল অঞ্চলে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, ভারতীয় বাহিনীর প্যারাস্যুট, মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে বিধ্বস্ত পাকিস্তানি জাহাজের অংশবিশেষসহ বিভিন্ন স্মারক।

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বিকেলে জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন একদল তরুণ। তাঁদের একজন রুদ্র রহমান জানান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের সবারই জানা উচিত। এ জাদুঘরে এসে অনেক কিছু জানা গেল। মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস রয়েছে এখানে।

তরুণ আইনজীবী জিনিয়া বখ্শ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্যাতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এ দেশের মানুষের ত্যাগের ইতিহাস এ জাদুঘরে এসে দেখতে পাওয়া যায়। এ জাদুঘর নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।

জাদুঘরকে কেন্দ্র করে একদল তরুণ সংগঠিত হয়েছিলেন। তাঁরাই এ জাদুঘরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ারের সঙ্গে থাকতেন। এই স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়কারী মুঈদ হাসান বলেন, যে কেউ এই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন।

আনোয়ার উল আলমের স্ত্রী ও জাদুঘরের ট্রাস্টি সাঈদা কে আলম জানান, আনোয়ার উল আলম যুদ্ধ করেই থেমে থাকেননি। তিনি বলতেন, দেশটাকে সমৃদ্ধির পথে, প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। নতুন প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে, সেই চিন্তা থেকে তিনি এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন