বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে ভাটামালিক গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজের জমিতে ডকইয়ার্ড করছেন। এখানে নদীর কোনো জমি নেই। নদীর পাড় থেকে ১০০ ফুট জায়গা রেখে ডকইয়ার্ড করছেন। ভবিষ্যতে ওই ১০০ ফুট জমি নদীতে ভেঙে যাবে। তখন তিনি নৌযান মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে নেবেন।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, বাইনচটকি এলাকায় ফেরিঘাটের পূর্ব পাশে বিষখালী নদীর চর। সেখানে উত্তর পাশে ওই চর কেটে নালা তৈরি করে নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ওই নালা গেছে ৪০০-৫০০ ফুট দূরের একটি স্থানে। নদীর তীর থেকে কেটে আনা মাটি ওই স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অদূরেই অবস্থিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহীন বলেন, ইটভাটার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন নদীতীর থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কাটার স্থান থেকে বাঁধের দূরত্ব ৫০ ফুটের মতো। মাটা কাটার কারণে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। যেভাবে চর কেটে ডকইয়ার্ড নির্মিত হচ্ছে এবং ইট তৈরির জন্য মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে দ্রুতই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম প্রথম আলোকে বলেন, আইন অনুযায়ী নদী থেকে মাটি কাটা অবৈধ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে ফেলে কেউ নদীর তীর থেকে মাটি কাটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ডকইয়ার্ড নির্মাণের জন্য খাসজমির পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের ব্যক্তিমালিকানার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এলাকার অন্তত দুজন বলছেন, তাঁদের জমি জবরদখল করেছেন ভাটামালিক গোলাম মোস্তফা। তাঁদের একজন বাইনচটকি এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক। তিনি বলেন, ডকইয়ার্ডের মধ্যে তাঁর জমি পড়েছে। ওই জমি জোর করে দখলে নিয়েছেন গোলাম মোস্তফা। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও কোনো সমাধান পাননি তিনি।

কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাসজমি দখল করে ডকইয়ার্ড নির্মাণ করছেন গোলাম মোস্তফা। তিনি ইটভাটার জন্য আগে থেকেই চর দখল করেছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভূমি অফিস একবার সীমানা নির্ধারণ করে দিলে তিনি মানেননি। এখন আবার ডকইয়ার্ড নির্মাণ করছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে এই এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ডকইয়ার্ড নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিএ) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগে। কিন্তু এসবের ধার ধারেননি গোলাম মোস্তফা। অবশ্য তিনি দাবি করেন, অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা দিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর বরগুনা নদীবন্দরের কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন, বাইনচটকি এলাকার নদীর চরে ডকইয়ার্ড নির্মাণের জন্য তাঁদের কাছে কেউ আবেদন করেননি। একই কথা বলেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া। পাথরঘাটার ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। সরকারি জমি দখল করে ওই স্থানে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন