নদীর নাব্যতা ফেরাতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে প্রতিবাদ

বিজ্ঞাপন
default-image

রঙিন কাগজের তৈরি নৌকা। এগুলো ভাসানো হয় বাসিয়া নদীর জলে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদর দিয়ে প্রবহমান বাসিয়া নদী। একসময়ের স্রোতস্বিনী এ নদী দখল-দূষণে এখন মৃতপ্রায়। নদীর নাব্যতা ফেরত পাওয়ার দাবিতে স্রোতহারা এ নদীর জলে এই কাগজের নৌকা ভাসিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদ জানানো হয়।

নদীর নিরাপত্তাবিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর ঘাট এলাকায় এ অভিনব কর্মসূচি পালন করে। ‘নদীর নাব্যতা ফেরত পাওয়ার দাবিতে কাগজের নৌকা ভাসানো’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে একাত্ম হয় ‘বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ’ ও ‘বিশ্বনাথ উপজেলা মানবাধিকার কমিশন’ নামের বিশ্বনাথের আরও দুটি সংগঠন। বাসিয়ার দখল-দূষণ বন্ধ করে নদী খনন করার মাধ্যমে নৌপথ সচল করার দাবি তাদের সবার। এ কর্মসূচির সঙ্গে নদীতীরে বৃক্ষ রোপণ করে সংগঠনগুলো। এর মাধ্যমে নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে নদী অববাহিকা এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কর্মসূচির আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বনাথের বাসিয়া নদীটি সুরমা নদীর একটি দীর্ঘতম শাখা নদী হিসেবে পরিচিতি। খরস্রোতা এ নদী সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকা হয়ে সুরমা নদী থেকে বিশ্বনাথ, ওসমানী নগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে। চার উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত এ নদীর সঙ্গে অসংখ্য খাল, বিল, হাওর ও ছোট-বড় নদীর সংযোগ রয়েছে। নদীতে লঞ্চ, ইঞ্জিনের নৌকা, পালতোলা নৌকা, বালু-পাথরবাহী নৌকাও চলাচল করত। প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের যাতায়াতের মূল পথ ছিল বাসিয়া নদীর জলপথ। ১৯৯০ সাল থেকে নদীটির বিশ্বনাথ অংশ দখল–দূষণে হুমকির মুখে পড়ে। প্রায় ৩০ বছরে বাসিয়া একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাসিয়ার জলে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আজ নাগরিকদের নানা কর্মসূচি পালন করতে হয়। অতীতে এই বাসিয়া নদীতে বড় বড় পণ্যবাহী ও পালতোলা নৌকা চলাচল করত। এখন নদীতে দখল আর দূষণের কারণে বড় বড় নৌকা দূরের কথা, একটি ডিঙি নৌকাও দেখা যায় না। নৌপথ বন্ধের এ অবস্থায় প্রতীকীভাবে কাগজের নৌকা চালিয়েও দেখা গেল নৌপথ কতটা অবরুদ্ধ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাসিয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী অববাহিকা এলাকার মানুষদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

বিশ্বনাথ উপজেলা সদর ঘাটের মতো উপজেলা পরিষদের ঘাটেও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে। এই আবর্জনা-ভাগাড় দেখিয়ে নদীতীর দখল চলে।

বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ফজল খানের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য আবদুল বাতিনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সূচনা বক্তব্য দেন নোঙরের চেয়ারম্যান সুমন শামস। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আবদুল করিম চৌধুরী ও বাপা সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক ছামির মাহমুদ। বাসিয়া নদী রক্ষা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে একাত্ম হন বাংলাদেশ পল্লী ফোরামের চেয়ারম্যান চৌধুরী আলী আনহার, বিশ্বনাথ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম ও সিলেটের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সমন্বয়কারী শাহ নাজিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কর্মসূচি শেষে আবদুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসিয়া নদীটি বিশ্বনাথ উপজেলা সদর এলাকায় ১৮৭ জন দখলদারের গ্রাসে আছে বলে আমরা শুনেছি। এই দখলের বিরুদ্ধে এর আগে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হয়েছে। দখলদারেরা নানা কৌশলে নদী খাচ্ছে। বিশ্বনাথ উপজেলা সদর ঘাটের মতো উপজেলা পরিষদের ঘাটেও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে। এই আবর্জনা-ভাগাড় দেখিয়ে নদীতীর দখল চলে। আমরা নৌপথ রুদ্ধ করার প্রতিবাদে প্রতীকী কর্মসূচি পালনের পর নদীতীর পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় লোকজদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছি। এ সতর্কতায় বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন