default-image

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্তকে তাঁর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের মামলায় দুলাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-১-এর উপসচিব নুমেরী জামানের গত বুধবার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি এখনো বগুড়ায় পৌঁছায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত বৃহস্পতিবার বরখাস্তের চিঠির স্ক্যান কপি প্রকাশ করা হয়। দুলাল চন্দ্র মহন্ত নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ আধা কেজি গাঁজাসহ তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করলে দুলাল চন্দ্রকে ২৮ মার্চ যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. শারমিন আখতার আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত তিনি হাতে পাননি। আগামীকাল রোববার অফিস খুললে তিনি খোঁজ নেবেন।

বিজ্ঞাপন

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত কবির প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগী গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল আবদুল মতিনের ওপর হামলা ও মারধরের পর তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় কনস্টেবল আবদুল মতিন বাদী হয়ে পরের দিন দুলাল চন্দ্র ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন ওরফে সুমন এবং উপজেলা যুবলীগের সদস্য প্রশান্ত কুমারকে গ্রেপ্তার করে। প্রধান আসামিসহ অন্যরা পরে আদালত থেকে জামিন নেন।
ওসি আরও বলেন, পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্রসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালে মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাও তদন্ত শেষে দুলাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দুটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা উপসচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়ে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ২৩ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্র ১৮ আগস্ট আদালতে গৃহীত হয়। এতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত) এর ১৩ খ (১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে (দুলাল চন্দ্র) উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
জানতে চাইলে দুলাল চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি তিনি এখনো পাননি। তিনি দাবি করেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা সাজানো। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অপদস্থ করতে এই মামলা করেছে। পুলিশের ওই কনস্টেবলকে ছয়জন মিলে মারধর করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ চিকিৎসার কোনো প্রমাণ দাখিল করা হয়নি। এখন আদালতে আইনগতভাবে এই ষড়যন্ত্রের ফয়সালা হবে।
মাদকের মামলা এবং পুলিশের ওপর হামলা মামলায় জামিনে রয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাদকের মামলাতে পুলিশ আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসিয়েছে।’ তাঁর দাবি, তিনি মাদক কারবারে সম্পৃক্ত থাকলে জনগণ ভোট দিয়ে তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতেন না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0