পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আমড়াখাই গ্রামের কামাল হোসেনের পৈতৃক ১৭ একর জমি নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই নজরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী অনেকবার সালিস বৈঠক করেন। তাতেও কোনো সমাধান হয়নি।

আজ সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে কামাল হোসেনের লাগানো ধান নজরুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন উপড়ে ফেলতে চাইলে তাতে বাধা দেন কামাল হোসেন। এ নিয়ে প্রথমে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে লাঠিসোঁটা, বল্লম ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে কামাল হোসেন (৩৮) গুরুতর আহত হন। তাঁকে স্বজনেরা উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হন। তাঁরা নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

কামাল হোসেনের পৈতৃক ১৭ একর জমি নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই নজরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে অনেকবার সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই বদরুল ইসলাম বলেন, তাঁদের জমি থেকে নজরুল ইসলাম রোপণ করা ধানের গাছ উপড়ে ফেলে বিনষ্ট করতে থাকেন। এ সময় তাঁর ভাই কামাল বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নজরুলের বল্লমের আঘাতে তাঁর ভাই কামাল হোসেন প্রাণ হারান।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে কামাল হোসেন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত পরস্পর চাচাতো ভাই। সুরতহাল শেষে নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন