বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এরশাদুল হক (৩৫) উপজেলার নাটঘর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের ছেলে ও বাদল সরকার (২৫) নান্দুরা গ্রামের সন্তোষ সরকারের ছেলে। এরশাদুল হক ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বাদল সরকার গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে ও এরশাদুল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। বাদল এরশাদুলের সহযোগী ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে এরশাদুলের চাচাতো ভাইকে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেন। ওই ঘটনায় এরশাদুল বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। বিষয়টি তাঁরা আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল। পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা জানান, ভোরে উপজেলার নাটঘর থেকে একজনকে (৩৩) আটক করা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল থেকে গুলির চারটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকার শাহবাগ থানা-পুলিশ নিহত এরশাদুলের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাটঘরের ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম অসুস্থ। তাই তিনি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাবার পরিবর্তে এবার ছেলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাত আটটা থেকে পৌনে নয়টার দিকে এরশাদুল বাদল সরকারকে নিয়ে নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর বাজারের পাশে ওয়াজ মাহফিলে যান। ওয়াজ মাহফিলে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান তিনি। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন বাদল ও তাঁর পেছনে এরশাদুল বসা ছিলেন। পথে উপজেলার মহেশ সড়কে রাস্তায় চারটি মোটরসাইকেলে আটজন দুর্বৃত্ত তাঁদের ঘেরাও করে।মোটরসাইকেল আরোহী বাদল প্রথমেই দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তারা এরশাদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে বাদল মারা যান। গুরুতর আহত এরশাদুলকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেখানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদুল।ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ দুপুর ১২টায় নাটঘর ইউনিয়নের নান্দুরা গ্রামে এরশাদুল ও বাদল সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এরশাদুলের স্ত্রী সুমি বেগম, মা রওশন আরা বেগম আহাজারি করছেন। বাদল সরকারের বাড়িতেও মা সনিতা রানী সরকারসহ স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। এরশাদুলের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কিছুক্ষণ পরই তাঁর দেবর আকতারুজ্জামান বাড়িতে এসে ঘটনাটি জানান।

আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাটঘর ইউপিতে আমার ছেলেসহ আওয়ামী লীগের দুজন ও বিএনপির দুজন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁর ছেলে ১৫-২০ দিন ধরে জনসংযোগ করছিল।’

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক জানান, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন