default-image

নরসিংদী শহরের ভেলানগরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নাইমুর রহমান (২৪) নামের ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে ভেলানগরের চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নাইমুরের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার তারানগর গ্রামে। তিনি সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেড নামের একটি ভেটেরিনারি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই মাস আগে এই ওষুধ কোম্পানিতে যোগ দেন নাইমুর। তিনি শহরের ভেলানগর এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের পেছনে একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। গতকাল রোববার রাতে কাজ শেষে ওই বাসায় ফেরার জন্য রওনা হলেও তিনি মেসে ফেরেননি। আজ ভোরে ভেলানগরের চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায়। লাশটি নাইমুরের বলে শনাক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ভোর পাঁচটার আগে ঘটেছে। ভোরে হাঁটতে বের হওয়া স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাইমুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বুক, হাতসহ শরীরের অন্তত পাঁচ জায়গায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম বলেন, নাইমুর রহমান নামের ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর বুক ও হাতে ছুরির মতো ধারালো কিছুর বড় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আরও কয়েক জায়গায় আঘাত থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেডের নরসিংদীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মৃদুল কান্তি শর্মা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসার দিকে রওনা হন নাইমুর। এত রাতে কোনোভাবেই মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁর বাইরে বের হওয়ার কথা নয়। তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে আর কী কারণে ঘটেছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁরা এরই মধ্যে নাটোর থেকে রওনা হয়েছেন।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী বলেন, নাইমুরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন