বিজ্ঞাপন

সাজ্জাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় লোকজন জানান, ভোররাত চারটার দিকে বাড়িটির পেছনের অংশের কলাগাছ বেয়ে দোতলায় ওঠে একজন। পরে গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে ওই ডাকাত। তার সহযোগিতায় শাড়ি ঝুলিয়ে সাত–আটজনের একটি ডাকাত দল বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরটিতে মোট নয়জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় সাজ্জাদ তাঁর মুঠোফোনের সাহায্যে স্থানীয় কয়েকজনকে কল করে ডাকাত আসার খবর জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমাদের ঘরে যে ডাকাত দল এসেছিল, তাতে সাত–আটজন ডাকাত ছিল। বাড়িটিতে ঢোকার পরই তারা ঘরের ভেতরে অবস্থান করা সবার মুখ-চোখ বেঁধে ফেলে এবং প্রতিটি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। আমার ছেলে ফোন করে মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার খবর জানানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজনকে জানিয়েছিলেন। পরেই তাকে কোপানো হয়। পরে তিন-চার ভরি স্বর্ণালংকার ও লক্ষাধিক নগদ টাকা নিয়ে ডাকাতেরা চলে যায়।’

ডাকাতেরা চলে গেলে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সাজ্জাদ হোসেনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালটির মর্গে পাঠানো হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ আমীরুল হক জানান, ‘সাজ্জাদের বুকের বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের বড় ধরনের আঘাত দেখা গেছে। এ ছাড়া ওই যুবকের শরীরে ছোট–বড় পাঁচটি আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি আমরা। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম ও নরসিংদীর পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন।

জানতে চাইলে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সওগাতুল আলম জানান, ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে সাজ্জাদ হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন