বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশকেই তাৎক্ষণিকভাবে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালটির পুলিশ কেস রেজিস্টারে কোনোভাবে হাফিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তবে তাঁকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। সেখান থেকেই তাঁর নামটি পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের কাছে যায়।

হাফিজ ও কল্যাণী নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামের খলিল উল্লাহ পাঠানের ছেলে-মেয়ে। হাফিজ ঢাকার হাজী সেলিম কলেজের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক। আর কল্যাণী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হাফিজের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে নিজেদের বাড়িতে যাচ্ছিলেন দুই ভাই-বোন। তাঁরা গাজীপুরের টঙ্গী হয়ে পলাশের ঘোড়াশাল পর্যন্ত পৌঁছান। পরে লেগুনায় করে পাঁচদোনা মোড়ের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। পথে দুর্ঘটনায় ভাই-বোন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ঘোড়াশালের রওশন জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্বজনেরা ওই হাসপাতাল থেকে তাঁদের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁদের দুজনকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, হাফিজের মেরুদণ্ডের ও কল্যাণীর বুকের হাড় ভেঙে গেছে। হাফিজকে পরে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত ভাই-বোনের বাবা খলিল উল্লাহ পাঠান বলেন, ছেলেকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। মেয়েকে আজ দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

ওই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার কুঁড়িপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৩০) ও তাঁর একমাত্র সন্তান আল আমিন (১০), গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চান মিয়া (৫৫), লেগুনাচালক নেত্রকোনার পূর্বধলার নোয়াগাঁও গ্রামের আমান মিয়া (২৩), রাজধানীর মিরপুরের এস এম শওকত হোসেন (৫৫) ও ৪৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন