বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁরা হলেন আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামের মো. আশরাফুল (২০), আমির হোসেন (৫০) ও খোরশেদা বেগম (৫৫)। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ সাতজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনজনই আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন সরকারের কর্মী-সমর্থক। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল্লাহর সমর্থকদের সঙ্গে চেয়ারম্যান পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুজনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কিছুদিন পরপরই দুই পক্ষের সমর্থকেরা টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আলোকবালী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দেলোয়ার। অন্যদিকে মো. আসাদুল্লাহ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এরপরও নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ রয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে ওই ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

গতকাল সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের ছোড়া গুলিতে ও টেঁটায় বিদ্ধ হয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক নারীসহ তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ অন্তত ২২ ব্যক্তিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলা করতে বিলম্বের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মতিন বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে নিহত তিনজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো সাতজনের শরীর থেকে এখনো গুলি অপসারণ করা যায়নি। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগামীকাল শনিবার তাঁদের শরীর থেকে গুলি অপসারণ করা হবে। সবাই এখন তাঁদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। নিহত তিনজনের পরিবারের সদস্যরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দ্রুতই নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করতে যাবেন তাঁরা।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর আলোকবালী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া গত ২৮ অক্টোবর ভোরে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল পাড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোট ৬ জনের মৃত্যু দেখল নরসিংদীর মানুষ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন