বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। পাঁচ শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মী এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা পুলিশের একদল সদস্য সেখানে হাজির হয়ে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে যান। পরে গ্রেপ্তারের ভয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপরই বাইরে থেকে পুলিশ কার্যালয়টি ঘিরে রাখে। কেউ বের হতে গেলেই তাঁকে আটক করা হয়। ওই সময় কার্যালয়টির দুই পাশের সড়কে খণ্ড খণ্ড দলে ভাগ হয়ে শতাধিক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, সহসভাপতি দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম সম্পাদক আকবর হোসেন, শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দীন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আমিনুল হক, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাররম ভূঁইয়া, হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ গতকাল রাতে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

তবে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ বলছে, সোমবার বিকেল থেকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা নরসিংদী সদরের চিনিশপুর এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দলীয় অনুষ্ঠান করছিল। পুলিশ তাঁদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে তাঁরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ইটের আঘাতে আবু সাইদ ও সবুজ মিয়া নামের দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।

গতকাল দলীয় কার্যালয়েরই ভেতরেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালীন বিনা কারণে ও বিনা উসকানিতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় যাঁরাই বের হতে চেয়েছেন, তাঁদেরই আটক করা হয়েছে।
খায়রুল কবির, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ এই অধিকারও তারা আমাদের দিতে চায় না। গতকাল দলীয় কার্যালয়েরই ভেতরেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালীন বিনা কারণে ও বিনা উসকানিতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় যাঁরাই বের হতে চেয়েছেন, তাঁদেরই আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার আবার আমাদের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাও দিয়েছে। এভাবে আমাদের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে তারা আমাদের থামিয়ে দিতে চায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সওগাতুল আলম জানান, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এই মামলায় ৭২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আটক ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন