নরসিংদীতে সাংবাদিকসহ আরও ২২ জনের করোনা শনাক্ত

বিজ্ঞাপন
default-image

নরসিংদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় এক সাংবাদিকসহ নতুন করে আরও ২২ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৪৪৩। এ ছাড়া আক্রান্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯ জন। আজ শুক্রবার প্রথম আলোর কাছে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

আক্রান্ত সাংবাদিকের নাম বাদল সাহা। তিনি দৈনিক ভোরের কাগজ ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের নরসিংদী প্রতিনিধি। আট–নয় দিন ধরে তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনার উপসর্গে ভুগছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে। এ ছাড়া একই দিনে তাঁর ছেলেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেইল্যান্সের আওতায় গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই—এই দুই দিনে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে মোট ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য আইসিডিডিআরবিতে পাঠানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুই ধাপে হাতে পাওয়া এসব নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে নতুন করে ১৭ জনকে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন ১৫ জন এবং শিবপুর উপজেলা ও রায়পুরা উপজেলায় একজন করে রয়েছেন। এ ছাড়া ১ জুলাই রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে (আইপিএইচ) পাঠানো ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৫ জন করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সদর উপজেলার ৩ জন এবং মনোহরদী উপজেলা ও শিবপুর উপজেলার ১ জন করে রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত জেলার ৬টি উপজেলা থেকে মোট ৭ হাজার ২০৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ৭ হাজার ৬০ জনের নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৪৩ জন করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।

জেলাজুড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৯১৫ জন, শিবপুরে ১৩২ জন, পলাশে ১২৪ জন, রায়পুরায় ১১০ জন, বেলাবতে ৮৫ জন ও মনোহরদীতে ৭৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে ১৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তি কোভিড ডেডিকেটেড ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এবং ৩৮৫ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও সংস্পর্শে আসা লোকজনের নমুনা সংগ্রহ এবং হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

জেলায় এ পর্যন্ত ৩৫ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে সদর উপজেলায় ২২ জন, বেলাব উপজেলা ও রায়পুরা উপজেলায় ৪ জন করে, মনোহরদী উপজেলা ও পলাশ উপজেলায় ২ জন করে এবং শিবপুর উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন