বিজ্ঞাপন

গত বুধবার কুয়াকাটা সাগরপারের জেলেপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার একমাত্র নলকূপটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গৃহবধূ হালিমা বেগম বলেন, এই পল্লির ২৫টি পরিবারের শতাধিক লোকের জন্য এ নলকূপটি ছিল একমাত্র সুপেয় পানির উৎস। নলকূপটি অকেজো হয়ে পড়েছে। এখানকার নারীদের আধা কিলোমিটার দূর থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

ওই পল্লির আরেক বাসিন্দা সখিনা বিবি বলেন, ‘বইন্যার পর এখন মোগো বড় সমস্যা খাবার পানি। এই কলডা দিয়া ঘরের কাজের পাশাপাশি খাওনও হইতো। কিন্তু লোনাপানি ঢুইকা কলডাই নষ্ট হইয়া গেছে।’

জেলেপল্লির বাসিন্দা সুমন শেখ বলেন, পানির ঝাপটায় নলকূপের হাতল খুলে গিয়ে পাইপের মধ্যে লবণপানি ঢুকে গেছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর এই এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। ওই সময় সেখানে ৫টি নলকূপ বসানো হয়েছিল। কিন্তু অনেক আগেই সেই নলকূপগুলো অকেজো হয়ে গেছে। এই জলোচ্ছ্বাসে তাদের নলকূপটিও অকেজো হয়েছে। এখন তাদের সুপেয় পানির সংকট।

কলাপাড়ার লালুয়া ইউপির চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস বলেন, রাবনাবাদ নদীর তীরের সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আগে থেকেই বিধ্বস্ত ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উঁচু জলোচ্ছ্বাসে ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম পুরোপুরি প্লাবিত হয়। পানি নেমে গেলেও এলাকায় অনেক গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে আছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী ফায়েজ আহমেদ বলেন, জেলায় সবচেয়ে বেশি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাউফল উপজেলায় ৩০৫টি। এ ছাড়া কলাপাড়া উপজেলায় ২৪১টি, রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৬৭টি, সদর উপজেলায় ৪৫টি, গলাচিপা উপজেলায় ৩৪টি, দশমিনায় ১৫টি ও মির্জাগঞ্জে আটটি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়েজ আহমেদ আরও বলেন, মূলত বাঁধের বাইরের নলকূপগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। আবার অনেক নলকূপ রয়েছে, যেগুলোতে লবণ ঢুকেছে। নলকূপগুলো থেকে লবণপানি সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ ছাড়া অকেজো সব নলকূপ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন