default-image

ঝালকাঠির নলছিটিতে দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। র‍্যাবের সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ইউপি নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ সকাল ৯টার দিকে দপদপিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী মো. হাসান বিশ্বাস বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে উপজেলা শহরে যাচ্ছিলেন। পথে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের সমর্থকেরা সাতঘর এলাকায় তাঁর গতি রোধ করেন। এ সময় হাসান বিশ্বাস মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে ফেরার চেষ্টা করলে মামুনের সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এ খবর পেয়ে হাসান বিশ্বাসের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কয়া বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

কয়া বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জন আহত হন। এর মধ্যে শহিদ মল্লিক, আশ্রাব হাওলাদার, সুমন হাওলাদার, আলাল বিশ্বাস, বাপ্পারাজ মল্লিক, হাসানাত রাঢ়ি, শুক্কুর খান, পারুল বেগমের নাম জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে গেলে মামুনের সমর্থকেরা অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করেন এবং চালককে পিটিয়ে জখম করেন। পরে পুলিশ ও র‍্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ পরে আহত লোকজনকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বিজ্ঞাপন

ইউপি সদস্য প্রার্থী হাসান বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ইন্ধনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের লোকজন আমার ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ হামলার নেতৃত্বে ছিলেন মামুনের ভাই মাসুম হাওলাদার। তাঁরা আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন।’

এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
মো. আলী আহম্মেদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), নলছিটি থানা

অন্যদিকে ইউপি সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী হাসান বিশ্বাস আমার ভাই মাসুম হাওলাদারকে মারধর করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। হাসান বিশ্বাসের লোকজন আমার আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।’

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আহম্মেদ বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন