default-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে দুটি পৃথক অভিযানে গতকাল বৃহস্পতিবার আড়াই লাখ ইয়াবা বড়িসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ ইয়াবা বড়ির মূল্য আনুমানিক সাড়ে সাত কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন বিজিবির কর্মকর্তারা।
গ্রেপ্তারকৃতদের একজন উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া সবাই কুতুপালং শরণার্থীশিবিরের রোহিঙ্গা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাঁদের আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ফুলতলি সীমান্ত এলাকা থেকে ১০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ হওয়ায় ইয়াবা চোরাকারবারিরা এখন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের পাহাড়ি সীমান্ত ইয়াবা পাচারের জন্য ব্যবহার করছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, রেজু আমতলি সীমান্তচৌকির (বিওপি) বিজিবির সদস্যরা সকালে রেজু আমতলি আমবাগান সীমান্তে অভিযান চালান। আবার বিকেলে বালুখালী বিওপি থেকে করবুনিয়া পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই দুই অভিযানে রেজু আমতলি আমবাগান এলাকা থেকে দুই লাখ ও করবুনিয়া পাহাড় থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলি ৩৫ কিলোমিটার ও করবুনিয়া পাহাড় ৩০ কিলোমিটার। এলাকা দুটি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলাসংলগ্ন।

বিজ্ঞাপন

বিজিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের কাছে খবর ছিল ইয়াবা বড়ির বড় চালান মিয়ানমার থেকে আসবে। এ জন্য তাঁরা রেজু আমতলি আমবাগান পাহাড়ে ও করবুনিয়া পাহাড়ে কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের রেজু আমতলি ও বালুখালী বিওপি থেকে অভিযান চালান।
কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রেজু আমতলি আমবাগানের পাহাড়ে বিজিবি সদস্যরা ওত পেতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছয়জন ইয়াবা পাচারকারী মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পার হয়ে রেজু আমতলিতে ঢুকে পড়েন। বিজিবির সদস্যরা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করলে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের আটক করে তল্লাশি চালিয়ে দুই লাখ ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া দুই লাখ ইয়াবার মূল্য ছয় কোটি টাকা হতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উখিয়ার থাইংখালীর জয়নাল আবেদিন (২৫), উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের রহমত উল্লাহ (২৫), মাহমুদুল হাসান (২১), মো. সেলিম (২২), মো. আমিন (২২) ও জিয়াবুল হক (২৬)।

বিকেলে ঘুমধুম করবুনিয়া পাহাড়েও মিয়ানমারের দিক থেকে পাঁচ-ছয়জন ইয়াবা চোরাকারবারি করবুনিয়া পাহাড়ে ঢোকেন। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি জেনে তাঁরা গুলি ছুড়তে থাকেন। বিজিবি পাল্টা একটি গুলি চালালে চোরাকারবারিরা সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যান। বিজিবি সদস্যরা চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ইয়াবা বড়ির বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা হতে পারে।
বিজিবি কক্সবাজারের ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানিয়েছেন, এ অভিযান চলবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসাইন বলেন, আড়াই লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0