বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিটি করপোরেশনের আগের মেয়রদের আমলে স্থাপনার আয়তনের ভিত্তিতে গৃহকর আদায় করা হতো। তবে সাবেক মেয়র নাছির উদ্দীনের সময় স্থাপনার ভাড়ার ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিক গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে আগের তুলনায় গৃহকর কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ওই সময় এর বিরোধিতা করেছিলেন সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ মনজুর আলমসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, সংগঠন। টানা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছিল করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নামের একটি সংগঠন। আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তা স্থগিত করে দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে যা আছে
স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া সিটি করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের করবিধি ১৯৮৬-এর ২১ বিধি অনুযায়ী, পাঁচ বছর পরপর গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের এখতিয়ার সিটি করপোরেশনগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের (স্থাপনা) কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। তবে বিভিন্ন মহলের বাধার মুখে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় তা স্থগিত করা হয়। ফলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে মন্ত্রণালয় পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে গৃহকর আদায়ের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহকর আদায় করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে তা আদায় সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ১০ বছর আগের করা পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে গৃহকর আদায় কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে হওয়া আয় দিয়ে নগরের ৬০ লাখ মানুষকে নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে করা পঞ্চবার্ষিক গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন শেষে ২ হাজার ৫৪৭টি সরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে বার্ষিক গৃহকর নির্ধারণ করা হয় ২৭৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর আগে ছিল ৫৬ কোটি ২১ লাখ টাকা; অর্থাৎ বছরে বার্ষিক দাবি বেড়েছে ২১৯ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে ৭৫ কোটি টাকার জায়গায় গৃহকর দাঁড়ায় ৫৭৫ কোটি টাকা। বর্তমানে বেসরকারি খাতে এই পুনর্মূল্যায়ন স্থগিত রয়েছে। তবে সরকারি খাতে চালু করা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যাপারে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

গত অর্থবছরে (২০২০-২১) সিটি করপোরেশন গৃহকর খাতে ১৫৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা আদায় করেছিল। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আয় হয় ৯৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

আন্দোলনের হুমকি করদাতা সুরক্ষা পরিষদের
আগের মেয়রের আমলে নির্ধারণ করা গৃহকর আদায়ের উদ্যোগ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি চাইলে ইচ্ছেমতো গৃহকর আদায় করতে পারব না। এর জন্য বিধিবিধান রয়েছে। বিধিবিধান অনুযায়ী গৃহকর আদায় করা হবে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই, গৃহকর বাড়বে না। গৃহকরের আওতা বাড়াতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনতলা ঘর এখন পাঁচতলা হয়েছে। বাকি দোতলা গৃহকরের আওতায় আনতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চাওয়া হয়েছে।’

করদাতা সুরক্ষা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র হাসান মারুফ প্রথম আলোকে বলেন, তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময় গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের পর যে কর ধার্য করা হয়েছিল, তা দেওয়ার সংগতি ছিল না অনেকেরই। সে জন্য তা বাতিলের জন্য মাঠে নেমেছিলেন নগরবাসী। এখন যদি সে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে একই কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন