বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও ভোট গ্রহণের হার তুলনামূলক কম। এক কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী এজেন্ট দিতে পারেনি। আবার দুই কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বেলা ১১টায় সিংড়ার কলম ইউনিয়নের কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু ভোটকক্ষে ভোটারদের তেমন ভিড় নেই। এমনকি কেন্দ্রের পাঁচটি ভোটকক্ষের দুটিতে নৌকা প্রতীকের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মজিদুল হক জানান, নৌকার প্রার্থী এখানকার দুটি ভোটকক্ষে তাঁর এজেন্ট নিয়োগ করেননি। একটি কক্ষের দায়িত্বরত নৌকার এজেন্টকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কথা বলতে চাচ্ছিলেন না। পরে জানান, এখানে নৌকার এজেন্ট হিসেবে কেউ দায়িত্ব পালন করতে রাজি হননি।

মুঠোফোনে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন (তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদের মামাশ্বশুর) জানান, গতকাল শনিবার রাতে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নৌকার সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে পাহারা বসানো হয়েছিল। কেন্দ্র লাগোয়া নৌকার এক কর্মীর বাড়ির ফটকে লাথি দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ফলে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। তবে ভোট শুরু হওয়ার পর তেমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি রয়েছে। ভোট দিতে কেউ চাপে পড়েননি।
এর আগে একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের লম্বা লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আজিম উদ্দিন নামের এক ভোটার জানালেন, তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে থেকে লাইন ছোট হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে ইচ্ছা করেই ভোট দিচ্ছেন না। সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে মাত্র ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সকাল ৯টায় হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের নলবাতা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এক ঘণ্টায় সেখানে মাত্র ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আসাদ ধীরে ভোট পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কেন ভোটাররা ভোটকক্ষে ঢুকছেন না, তা বুঝতে পারছি না।’ চামারি ইউনিয়নের রোধি চামারি, বাহাদুরপুর ও সোনাপুর কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। কিন্তু ভোটকক্ষ ফাঁকা দেখতে পাওয়া যায়।

এদিকে সুকাশ ইউনিয়নের জয়কুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের (সাগর আলী ও শুকুর আলী) নৌকার কর্মীরা ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিক ইকবাল জানান, নৌকার কর্মীরা ওই কেন্দ্র থেকে তাঁর চার এজেন্টকে বের করে দিয়েছেন। কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্যই এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে নৌকার প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সামিরুল ইসলাম জানান, নৌকার এজেন্ট না থাকার ঘটনা তাঁর কাছেও বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর নেবেন বলে জানান।

ইউএনও আরও জানান, শুকাশ ইউনিয়নে সকালের দিকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তিনিও পেয়েছেন। পরে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন