বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাদ্রাসার সুপার বলেন, ‘আমি প্রবেশপত্র নিয়ে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বাড়িতে গেছি। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তখনই তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। কারণ, তাদের সবারই বিয়ে হয়ে গেছে।’ বিয়ে হওয়ার পরও তো অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নেয়, তাহলে এরা কেন অংশ নিল না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ছাত্রীর অভিভাবক অশিক্ষিত ও দরিদ্র। তাঁদের মতে, বিয়ে হওয়ার পর পড়ালেখা করে লাভ নাই।’ এতগুলো ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়ে গেল, এ ব্যাপারে আপনি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘বিয়ের বিষয়টি আগে জানতাম না।’

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এই প্রতিনিধি আজ শুক্রবার ১০ জন পরীক্ষার্থীর বাড়িতে যান। তবে তারা বা তাদের অভিভাবকদের অনেকেই এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

গালিমপুর গ্রামের এক ছাত্রীর বাবা জানান, তিনি নিজে একজন শিক্ষক। আর্থিক সংকটের মধ্যেও অনেক টাকা খরচ করে মেয়ের ফরম পূরণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মেয়ে করোনার সময় নিজের পছন্দে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছে। এ অবস্থায় তাঁর মেয়ে পরীক্ষা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। মনের কষ্টে তিনি এ কথা কাউকে বলতে পারেননি।

মাদ্রাসাটির পাশের গ্রাম বারইপাড়া। ওই গ্রামের এক ছাত্রী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘করোনার সময় বাড়িতে শুধু শুধু বসেছিলাম। এ কারণে পরিবারের লোকজন বিয়ে দিয়েছেন। আমি এখন সংসার করছি। স্বামীর বা তার পরিবার আমাকে আর পড়ালেখা করাতে চান না। তাই আমি পরীক্ষায় অংশ নিইনি।’

পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সচিব ইব্রাহিম হোসাইন জানান, তাঁর কেন্দ্রে পাঁচটি মাদ্রাসার ছাত্রীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে আসেনি। এ ব্যাপারে তিনি মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সব পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। তারা কেউ পরীক্ষা দেবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন