default-image

ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. ইয়াকুব (৩৬) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বুধবার নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. ইমদাদুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াকুবের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. ইয়াকুব কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ছিলেন। রায়ের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার শিশুরা আদালতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৪ জন সাক্ষী শিশুদের বক্তব্যের সমর্থনে সাক্ষ্য দেন। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা শিশুদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হবে। আসামি স্বেচ্ছায় জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে জেলা প্রশাসন তাঁর সম্পদ বিক্রি করে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে ওই পরিমাণ টাকা জমা দিতে বাধ্য থাকবে বলে রায়ে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর সকাল নয়টায় দুই শিশু বাড়ির পাশে খেলছিল। আসামি তাদের চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে বাঁশবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুরা বাড়িতে গিয়ে মা–বাবার কাছে ঘটনার কথা বলে। দুই শিশু চাচাতো বোন। এ ঘটনায় এক শিশুর মা বাদী হয়ে লালপুর থানায় মামলা করেন। লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য গেলে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আনিছুর রহমান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন