বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভায় তাঁতি লীগের জেলা সভাপতি মশিউর রহমান, তেবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বকুল হোসেনও অন্য প্রার্থীর ভোটারদের কেন্দ্রে না আসতে সতর্ক করে দেন। পথসভায় এসব বক্তাদের পাশে বসে ছিলেন নৌকার প্রার্থী ওমর আলী প্রধান। তিনি ছাড়া আরও বক্তব্য দেন নাটোর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আহাদ আলী প্রমুখ।

তেবাড়িয়া ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি নৌকার প্রার্থীর লোকজনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ লিখিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, তাঁর কর্মী-সমর্থকদের প্রতিনিয়ত নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাফুরিয়া ইউনিয়নের চানপুর বাজারে এক কর্মিসভায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে শুধু নৌকার ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বলেছেন। অন্য প্রার্থীদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গেলে ষড়যন্ত্র করবে।

ওই দিন রাতেই চাঁনপুর বাজারে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদের মারপিট ও পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটে। নাটোরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, ‘ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাটি আমার নজরে এসেছে। আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের আচরণবিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। তাতে তাঁরা ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোট দিতে বাধা দিতে পারেন না। এটা যদি কেউ করেন, তাঁর বা তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, কেউ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ তাঁর কাছে করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা নির্বাচনী আইনে গুরুতর অপরাধ।

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে আছি। কথা বলতে পারছি না।’ এক মিনিট সময় চাইলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বক্তৃতা দিতে গিয়ে ভুলক্রমে বলে ফেলেছি। প্রথমে বক্তৃতাটি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। পরে ডিলিট করে দিয়েছি। আসলে আমিও একতরফা নির্বাচন চাই না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন