default-image

নাটোরে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নাটোর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তরমুজ বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ।

জেলা প্রশাসন সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে তরমুজ কিনে তা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে তরমুজ কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দুপুর ১২টার মধ্যে প্রায় সব তরমুজ বিক্রি হয়ে যায়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের মতো নাটোরেও তরমুজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গত শুক্রবার তরমুজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। পরে ব্যবসায়ীদের সম্মতিক্রমে ওজনভেদে প্রতি কেজি তরমুজ ২৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। তবে গতকাল শনিবারও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি তরমুজ কিনে ভোক্তাদের মধ্যে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। বিক্রয়কেন্দ্রে গুরুদাসপুর উপজেলার তরমুজচাষিদের কাছ থেকে এক ট্রাক তরমুজ নিয়ে আসা হয়।

ব্যবসায়ীদের সম্মতিক্রমে ওজনভেদে প্রতি কেজি তরমুজ ২৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। তবে গতকাল শনিবারও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিক্রয়কেন্দ্রের প্রতিটি তরমুজের ন্যূনতম ওজন ৬ কেজি, সর্বোচ্চ ৮ কেজি। গতকালও এমন আকৃতির তরমুজ প্রতিকেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ তিনি তা ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে পেরেছেন।
সবুজ হোসেন, ভোক্তা ও তরমুজ ক্রেতা

তরমুজ কেনার পর কানাইখালীর সবুজ হোসেন বলেন, বিক্রয়কেন্দ্রের প্রতিটি তরমুজের ন্যূনতম ওজন ৬ কেজি, সর্বোচ্চ ৮ কেজি। গতকালও এমন আকৃতির তরমুজ প্রতিকেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ তিনি তা ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে পেরেছেন।

মসজিদ মার্কেটের কর্মী মনিরুল ইসলাম বলেন, তরমুজের দাম নাগালের বাইরে থাকায় এত দিন কিনতে পারেননি। এখানে দাম কিছুটা কম হওয়ায় আজ একটি তরমুজ কিনেছেন তিনি।

জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম ও সদর উপজেলার বেশ কিছু জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ নাটোরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার। তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকেরা তরমুজের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিলেন না। সেই সঙ্গে ভোক্তাদেরও বেশি মূল্যে তরমুজ কিনতে হচ্ছিল। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির ফলে কৃষক ও ভোক্তা উভয় লাভবান হবেন।

বাজার স্বাভাবিক করার প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রি করা শুরু হয়েছে। এতে ভোক্তাদের যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে।
মো. শাহরিয়াজ, জেলা প্রশাসক
default-image

জেলা প্রশাসক মো.শাহরিয়াজ বলেন, প্রখর রোদে সব মানুষের কাছে বিশেষ করে রোজাদারদের কাছে তরমুজ একটি লোভনীয় ফল। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ও ভোক্তারা ঠকছিলেন। তাই বাজার স্বাভাবিক করার প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রি করা শুরু হয়েছে। এতে ভোক্তাদের যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে।

তরমুজ বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক সুব্রত সরকার ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন