default-image

কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটাগুলোতে বিক্রির প্রবণতা নাটোর অঞ্চলের বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন বৃষ্টিবাদলের দিন যত এগিয়ে আসছে, নতুন আরেক সংকট বয়ে আনছে ইটভাটার মাটি বহনকারী যানবাহনগুলো। পরিবহনের সময় যানবাহন থেকে মাটি পড়ে নাটোর জেলার গ্রামাঞ্চলের পাকা রাস্তাগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার সিংড়া উপজেলার সিংড়া-বারুহাস সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এ ছাড়া উপজেলার শেরকোল-তেলিগ্রাম, সিংড়া-কলম, চৌগ্রাম-কালীগঞ্জ, বিলদহর-চামারী সড়কেরও একই হাল। বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলার রাস্তাতেও একই সমস্যা হচ্ছে। মাটি বহনকারী যাববাহন চলাচল করায় এসব সড়ক ধুলায় ঢেকে থাকাসহ দুই পাশ থেকে আগেই ভাঙতে শুরু করেছিল। এর মধ্য গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল, ভটভটি, ভ্যান ও রিকশা ইত্যাদি যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এসব যানবাহন বেশি ব্যবহার করায় তারাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রাস্তাগুলো কাদায় মাখামাখি হয়ে এমন দশা যে হাঁটাও যায় না।

সিংড়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু ২০১৮ সালেই সিংড়া উপজেলায় ৬৬ হেক্টর জমিতে ১৬৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলাতেও চলছে পুকুর কাটার হিড়িক।

সিংড়ার পেট্রোবাংলা এলাকার বাসিন্দা শারদুল ইসলাম জানান, ব্যবসার প্রয়োজনে তাঁকে প্রতিদিন সিংড়া-বারুহাস সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ওই সড়কের ওপর ট্রাক-ট্রলি থেকে মাটি পড়ে থাকায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কাদায় ছড়াছড়ি হয়ে গেছে। গত তিন দিনে তিনি দুবার দুর্ঘটনায় পড়েছেন।

ইরফাদ আহমেদ নামের এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেরকোলের রাস্তায় রোদের সময় ধুলা উড়ে আর বৃষ্টির সময় কাদায় মাখামাখি দশা। এখন যানবাহনে, বিশেষ করে দুই চাকার যানবাহনে করে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ‘আমি প্রকৌশল শাখাকে কাদা সরিয়ে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার কথা বলে দিয়েছি। যাঁরা মাটি ফেলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাটোরের তেবাড়িয়া-জংলি-বাগাতিপাড়া সড়ক ও পিটিআই-দয়রামপুর সড়কেও যানবাহন থেকে মাটি পড়ে কাদাপানিতে একাকার দশা হয়েছে। পুকুর কাটার মাটি পরিবহনের সময় সড়কে মাটি পড়ে এ অবস্থা।

স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী মাসুদ হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিন তেবাড়িয়া-জংলি-বাগাতিপাড়া সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করেন। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে সড়কটিতে কাদা জমেছে। এ অবস্থায় মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে এ পথে চলাচল করতে হচ্ছে বলে জানান এ আইনজীবী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন