default-image

দলীয় গঠনতন্ত্র না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সম্মেলন করার অভিযোগে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলামকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম। গত সোমবার শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই সতর্কবার্তা আজ বুধবার সকালে পাঠানো হয়।

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পৃথক চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নাটোর-১ আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করছেন। তিনি এসব সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ইচ্ছেমতো কমিটি ঘোষণা করছেন। গঠনতন্ত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগকে ইউনিয়ন এবং ইউনিয়নকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের ক্ষমতা দেওয়া আছে। কিন্তু সাংসদ শহিদুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কিছু না বলে একের পর এক সম্মেলনের নামে নতুন কমিটি ঘোষণা করছেন। এতে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও মারামারির মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি সম্মেলনস্থলে প্রশাসনকে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।

দলীয় গঠনতন্ত্র না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সম্মেলন করার অভিযোগে এ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে সাংসদ শহিদুল ইসলামকে সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাটোর-২ আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম লালপুর ও বাগাতিপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ যাচাই করেন। ঘটনার সত্যতা পেলে সাংসদ শহিদুলকে লিখিতভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ১ মার্চ সাংসদ শহিদুল ইসলামকে লেখা সতর্কবার্তায় সাক্ষর করেন। বার্তাটি আজ ডাকযোগে সাংসদের বরাবর পাঠানো হয়।

সাংসদ ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে সাংসদ শহিদুল ইসলামকে সতর্ক করা হয়েছে। সতর্কবার্তার অনুলিপি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সাংসদ শহিদুল ইসলাম আজ বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এখনো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো চিঠি পাননি। শুধু শুনেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি দলের গঠনতন্ত্র অমান্য করেননি। লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় তিনি নিজে কোনো সম্মেলন আহ্বান করেননি। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সম্মেলন আহ্বান করে তাঁকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি তাতে উপস্থিত হয়ে আমন্ত্রণ রক্ষা করেছেন মাত্র। তবুও চিঠি পেলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন