default-image

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে চার বছর আগে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা পরিষদ। এটি হওয়ার কথা শহরের ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার’, যেটিকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৭৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্থান হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। এ জন্য শহরে একাধিক স্থান দেখা হয়। কিন্তু স্থান নির্ধারণে ভিন্নমতসহ নানা কারণে এটি উদ্যোগেই আটকে আছে।

সর্বশেষ পৌর শহরের শিল্পকলা একাডেমি ভবনের দক্ষিণ পাশে থাকা জেলা পরিষদের জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণের কথা বলা হয়। এ জন্য দুই বছর আগে সেখানে মাটিও ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু আর কোনো কাজ হয়নি এখনো।

সুনামগঞ্জ শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। ওই দিন সকালে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীকে হটিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। এরপর শহরে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা-জনতার বিজয়োল্লাস। তাৎক্ষণিক শহরের বর্তমান আলফাত স্কয়ার–সংলগ্ন ডি এস রোডের উত্তর পাশে তৎকালীন মুনসেফ ভবনের পরিত্যক্ত জায়গায় একটি শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীর নকশায় এই শহীদ মিনার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ৫ নম্বর সেক্টরের বালাট সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর মোত্তালিব। পরে এই শহীদ মিনারেই ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর থেকে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবসে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন শহরের মানুষজন। একই সঙ্গে এই শহীদ মিনারেই হচ্ছে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের প্রথম দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে আরেকটি নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয় ৩৫ লাখ টাকা। পরে দাবি ওঠে পুরাতন শহীদ মিনারের জায়গাতেই নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের। এ নিয়ে শহরে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু এখানে জায়গা কম থাকার পাশাপাশি মামলাসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। পরে ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য শহরের সরকারি জুবিলি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের এক প্রান্তে ভিত্তি স্থাপন করেন জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রশাসক এম এনামুল কবির। কিন্তু বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে ওই ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে ফেলে শিক্ষার্থীরা।

৩৫ লাখ টাকা নয়, শহীদ মিনার নির্মাণে আমরা কোটি টাকা ব্যয় করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু স্থান নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় উদ্যোগটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
মো. নুরুল হুদা, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান

পরে জেলা প্রশাসক শহরের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষকে নিয়ে বৈঠক করে তাঁর কার্যালয় প্রাঙ্গণের এক পাশে শহীদ মিনার নির্মাণের জায়গা দিতে সম্মত হন। কিন্তু ওই স্থান আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাঝামাঝি সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় এতেও ভিন্নমত আসে। উন্মুক্ত এবং সবার যাতায়াতের সুবিধাজনক স্থানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানানো হয় বৈঠকে। সর্বশেষ জেলা শিল্পকলা একাডেমির দক্ষিণ পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য সেখানে মাটি ভরাটও করা হয়েছে। কিন্তু এখানে আনসার–ভিডিপি কার্যালয়ের একটি টিনশেড ভবন থাকায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘৩৫ লাখ টাকা নয়, শহীদ মিনার নির্মাণে আমরা কোটি টাকা ব্যয় করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু স্থান নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় উদ্যোগটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে, তার এক পাশে ভবন সরানো হলেই কাজ শুরু করব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন