অন্যদিকে হাতেম আলীর অভিযোগ, গত শনিবার বিকেলে ইউপির গুদাম থেকে চালের বস্তা ইজিবাইকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটি জব্দ করে তাঁকে খবর দেন। পরে তিনি সেখানে যান। ইউপির গুদামের চাবি থাকে ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যের কাছে। তাঁদের নির্দেশ ছাড়া তো গুদাম থেকে চাল বের হওয়ার কথা নয়। চাল জব্দের ঘটনাটি তিনি প্রশাসনকে জানানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেদিন কোনো কর্মকর্তা তাঁর ফোন ধরেননি। এ কারণে চাল পাচারের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। ইউপির গুদামে এখনো দুই মেট্রিক টনের মতো চাল রয়ে গেছে। হাতেম আলী বলেন, ভিজিএফের চাল সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি বলে চাল গুদামে রয়ে গেছে।

বিগত ইউপি নির্বাচনে হাতেম আলী আমার সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এর পর থেকে তিনি দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে চলেছেন।
মোশাররফ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান, নান্দাইল

চাল জব্দের ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ইউপির চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন গতকাল সোমবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ৫ জুলাই ভিজিএফের চাল বরাদ্দ আসার বার্তা পান। এরপর খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে ৮ জুলাই সারা দিন তা বিতরণ করা হয়। উপকারভোগী না আসায় ২১৬টি কার্ডের চাল ইউপির গুদামে রয়ে গেছে। ৯ জুলাই সকালে কিছু কার্ডধারী এসে চাল নিয়ে গেছেন। এরপর দুপুরে তিনি ইউপি ভবন তালাবদ্ধ করে ব্যক্তিগত কাজে নান্দাইল শহরে চলে যান। নান্দাইলে অবস্থান করার সময় তিনি জানতে পারেন, আওয়ামী লীগ নেতা হাতেম আলী চাল জব্দের নাটক সাজিয়ে ইউপি ভবনের সামনে লোকজন জড়ো করে হইচই করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, হাতেম আলীকে দলীয় কোটায় ৭২০টি ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই কার্ড ব্যবহার করে তাঁর লোকজন চাল উত্তোলন করেছেন। সেই চাল নিয়ে যাওয়ার সময় পাচারের ঘটনা সাজানো হয়। এ ধরনের মিথ্যা ঘটনায় শুধু তাঁরই নয়, সরকার ও ইউপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকে দায়ী করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন।

মোশাররফ বলেন, ‘বিগত ইউপি নির্বাচনে হাতেম আলী আমার সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এর পর থেকে তিনি দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে চলেছেন।’

এ বিষয়ে মো. হাতেম আলী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দলীয় কোটায় ৭২০টি ভিজিএফ কার্ড পেয়েছিলেন। এসব কার্ড সঠিকভাবে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছেন। তবে ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা যোগসাজশ করে বেশকিছু ভিজিএফ কার্ডের চাল বিক্রি করেছেন। সেই বরাদ্দের ৪৪০ কেজি (৯ বস্তা) চাল ইউপির গুদাম থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে জব্দ হয়। ইউপির গুদামে চাল মজুত থাকা সত্ত্বেও হতদরিদ্র মানুষ চাল না পেয়ে ফেরত গেছেন। গুদামে আরও চাল রয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি দলের নেতাদের জানিয়েছেন। তাঁদের অনুমতি পেলে তিনিও সাংবাদিকদের ডেকে প্রকৃত ঘটনা জানাবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন