default-image

শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে লিটন সিকদারের পরিবর্তে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল লিটন ফরাজি (২৮) নামের এক হাজতিকে। সেই লিটন ফরাজিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রামপুরা থানা–পুলিশের সহযোগিতায় শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার দুপুরে তাঁকে শরীয়তপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় আজ দুপুরে শরীয়তপুর কারাগারের নতুন ডেপুটি জেলার মো. আবদুস সেলিম বাদী হয়ে লিটন ফরাজির বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা কারাগার সূত্র জানায়, গোসাইরহাট থানার একটি চুরির মামলার আসামি লিটন ফরাজি ও লিটন সিকদার। তাঁরা দুজন রাজবাড়ী ও খুলনার দুটি মামলারও আসামি। লিটন ফরাজি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দামুড়কাঠি গ্রামের আবদুর রব ফরাজির ছেলে। আর লিটন সিকদার খুলনার খালিশপুরের আনোয়ার সিকদারের ছেলে। গত ১১ মার্চ তাঁদের শরীয়তপুর জেলা কারাগারে আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

৪ এপ্রিল শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গোসাইরহাট থানার ওই মামলায় দুজনের জামিন হয়। খুলনা ও রাজবাড়ীর মামলায় লিটন সিকদার জামিনে থাকলেও লিটন ফরাজি জামিনে ছিলেন না। ওই দিন শরীয়তপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ লিটন সিকদারকে না ছেড়ে লিটন ফরাজিকে সন্ধ্যায় মুক্তি দেয়। আর লিটন সিকদারকে আটক রাখে। লিটন সিকদারের স্বজনেরা বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাদের নজরে আসে নামের ভুলে লিটন ফরাজি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পরে ৫ এপ্রিল রাতে লিটন সিকদারকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ৪ এপ্রিল কারাগার থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান লিটন ফরাজি। সপ্তাহখানেক পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।

৫ এপ্রিল ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষকে জানান শরীয়তপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) গোলাম হোসেন। কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ৬ এপ্রিল তাঁরা শরীয়তপুর জেলা কারাগার পরিদর্শন করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। ওই দিন কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম হোসেন কারারক্ষী মো. ইব্রাহীমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
এরপর ৭ এপ্রিল কারা মহাপরিদর্শক মোমিনুর রহমান ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। আর কারাগারের জেলার আমীরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকা বিভাগীয় কারা উপমহাপরিদর্শকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের জেল সুপার গোলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নামের মিল থাকায় লিটন সিকাদারের পরিবর্তে লিটন ফরাজি বেরিয়ে যান। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর আজ লিটন ফরাজিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন