বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আইনজীবী মুরাদ জামান জানান, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় আখ কাটাকে কেন্দ্র করে চিনিকল শ্রমিক, পুলিশ ও সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নামের তিন সাঁওতাল মারা যান। আহত হন উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন। এ ঘটনায় থোমাস হেমব্রম বাদী হয়ে ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সাঁওতাল হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অনেক আসামিকে বাদ দেওয়ায় পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এর বিরুদ্ধে নারাজি দেন হত্যা মামলার বাদী থোমাস হেমব্রম। নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত ২৩ ডিসেম্বর সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। সেখানে মোহাম্মদ হোসেন নামের এক মৃত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। এরপর সিআইডির অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি নারাজি দেন বাদী থোমাস হেমব্রম।

আইনজীবী মুরাদ জামান জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বরে গণমাধ্যমে সাঁওতালপল্লিতে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ফুটেজ প্রচারিত হয়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে এলে গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্তে তৎকালীন গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের এসআই মাহাবুব ও কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেনকে শনাক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এ সময় জুডিশিয়াল তদন্তে অসহযোগিতার কারণে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামকে বদলি করা হয়। এরপর এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আইনজীবী মুরাদ জামান আরও জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই হত্যা মামলার নারাজির আবেদনের ওপর শুনানি করা হয়েছিল। মামলার বাদীপক্ষ আদালতে মামলাটির জুডিশিয়াল তদন্ত চেয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত হত্যা মামলার জুডিশিয়াল তদন্তের রেফারেন্স এবং সাঁওতালপল্লিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের কপি চেয়েছিলেন। তাঁরা তা উপস্থাপন করেছেন। আদালত তাঁদের কথা শুনেছেন এবং আগামী ৭ ডিসেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

বারবার অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মুরাদ জামান বলেন, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সাংসদ আবুল কালাম আজাদ ও রংপুর চিনিকলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়ালসহ উল্লেখযোগ্য ১১ আসামির নাম বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়ায় বাদী থোমাস হেমব্রম বারবার নারাজির আবেদন করছেন।

সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন
আজ রোববার বিকেলে আদালতে নারাজি আবেদনের শুনানি চলাকালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে মানববন্ধন ও উপজেলা শহরে মিছিল করেন সাঁওতালরা। তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সাঁওতাল-বাঙালিদের নামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বাপ-দাদার জমি ফেরতসহ সাত দফা দাবিতে তাঁরা এসব কর্মসূচি পালন করেন।

বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন হয়। এর আগে সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল  করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন সাঁওতালরা। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। এতে বক্তব্য দেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুফল হেমব্রম, রাফায়েল হাসদা, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মুরমু, রুমিলা কিসকু ও সুচিত্রা মুরমু তৃষ্ণা প্রমুখ।

তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সাঁওতাল-বাঙালিদের নামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জমি ফেরত দিতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন