সমাবেশে হোসিয়ারি শ্রমিকনেতারা বলেন, ‘দুই বছর পরপর আমাদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও মালিকেরা মজুরি বৃদ্ধি করছেন না। বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়াসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। আমরা যে মজুরি পাই তা দিয়ে বর্তমান বাজারে কোনোভাবে সংসার চলে না। বেঁচে থাকার তাগিদে আট দফা দাবি আদায়ে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি ৫০ ভাগ বৃদ্ধি করতে হবে। আরএনএস-এর গেঞ্জির শ্রমিকদের ৭০ ভাগ মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিন দিতে হবে। হোসিয়ারি বডি মেশিন শ্রমিকদের ২ মেশিনে শিফট ধরে ৮ ঘণ্টায় ৩০০ টাকা করে দিতে হবে। অতিরিক্ত মেশিন চালানোর জন্য প্রতি মেশিনে ১০০ টাকা করে মজুরি দিতে হবে। দেশে প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী, সব শ্রমিককে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ আইনি সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। নারী শ্রমিকদের স্ববেতনে ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা প্রদান করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সব শ্রমিককে ঈদ বোনাস দিতে হবে। ফোঁড়নভিত্তিক শ্রমিকদের দুই ঈদে উৎসব বোনাস ও পূজায় ৬ হাজার টাকা করে দিতে হবে। বিসিক শিল্পনগরীতে নির্ধারিত জায়গায় হোসিয়ারি শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ও আসবাব দিতে হবে।

সমাবেশ চলাকালে শ্রমিক প্রতিনিধিদের একটি দল শ্রম পরিচালক খুরশেদ আলমের কাছে তাঁদের দাবি আদায়ে ও সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় শ্রম পরিচালক খুরশেদ আলম হোসিয়ারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন