default-image

দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ ও পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য ২০ দফা দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের সম্মান (অনার্স) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা মানিক ওরফে মুনা। আজ রোববার দুপুরে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।
তবে ফারহানা ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও সিলেটে এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার শুরুর দাবিতে ৫ অক্টোবর থেকে শরীরে জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে শহীদ মিনারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কলেজছাত্রী ফারহানা।
ফারহানা বলেন, ‘আমি এককভাবে প্রতিবাদ শুরু করেছি। এখন অনেকেই সংহতি জানিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আমরা সবাই মিলে আন্দোলনটাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। এই রাষ্ট্রে যখন একজন ছেলে জন্মায় সে ধর্ষক হিসেবে জন্মায় না। এই রাষ্ট্র তাকে ধর্ষক ও নির্যাতনকারী হিসেবে তৈরি করে। নারীর প্রতি নির্যাতন–নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তাই ২০ দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে আমি মনে করি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

ফারহানার দাবিগুলো হলো নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত অনিষ্পন্ন সব মামলা ১৮ মাসের মধ্যে শেষ করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণের ঘটনায় মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। এতে অভিযোগপত্র দেওয়া সহজ হবে। ৬৪ জেলায় সক্রিয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি থানায় নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের জন্য জেন্ডার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রতিটি জেলার লিগ্যালএইড কার্যালয়গুলোকে সক্রিয় করতে হবে। প্রতিটি লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের হটলাইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক হটলাইন ১০৯ নম্বরের ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সব শ্রেণি–পেশার মানুষকে এ বিষয়ে জানাতে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডও সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আইনের ধারাসমূহ ও প্রচলিত প্রথা বিলোপ করতে হবে। ধর্ষণের শিকার প্রত্যেকের রাষ্ট্রীয় খরচে শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তকালীন ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে বসবাসরত সব জাতিসত্তা ও সব ধর্মের নারীদের ওপর সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় সভায় নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি আইন কার্যকর করতে হবে। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫(৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য–প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।

গ্রামীণ সালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, মামলা করতে নিরুৎসাহিত করা বা সময়ক্ষেপণ করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। নির্যাতকের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে তাদের পরিচয় সবার সামনে নিয়ে আসা এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পরীক্ষা, তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার-বিচার কার্যক্রমে কোনো অবহেলা ও গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও ব্যক্তিদের বরখাস্ত ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সব ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধে যৌন ও জেন্ডারবিষয়ক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনসহ সব ন্যায়সংগত আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0