default-image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের টাকা নিয়ে ‘গণ প্রত্যাশা’ নামের এক সমিতির মালিকপক্ষ পালিয়ে গেছে। জীবনের প্রায় সবটুকু সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে হাজারো গ্রাহকের। মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার আড়াইহাজার থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে কালাপাহাড়িয়ার ইজারকান্দী গ্রামের জব্বার হাজির স্ত্রী সুফিয়া বেগম তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘গণ প্রত্যাশা’ নামে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন। উচ্চ সুদের লোভে গত এক যুগে সমিতিটিতে প্রায় ২ হাজার ১০০ গ্রাহক তাঁদের টাকা সঞ্চয় হিসেবে রাখেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দীর্ঘদিন গ্রাহকদের সুদ পরিশোধও করেছে সমিতি কর্তৃপক্ষ। তবে দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই সমিতি কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যালয়গুলো গুটিয়ে নেয়। তারপর থেকে গ্রাহকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মুঠোফোনে যোগাযোগ থাকলেও গত ৩০ অক্টোবর মুঠোফোন বন্ধ করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান সুফিয়া বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

সেলিনা আক্তার নামের এক গ্রাহক প্রথম আলোকে বলেন, প্রত্যেক গ্রাহক সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমিতিতে জমা রেখেছেন।

আয়শা আক্তার নামের আরেক গ্রাহক জানান, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকার সময় তিনি এই সমিতিতে প্রায় আট লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। করোনার মধ্যেই সৌদি আরবে কাজ হারিয়ে তাঁর স্বামী দেশে ফিরে আসেন। করোনার প্রকোপ কমলে সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে ব্যবসা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এ সময় সমিতি কর্তৃপক্ষের পালিয়ে যাওয়ায় তাঁরা এখন দিশেহারা। অন্য কোনো উপায় না পেয়ে পুলিশ ও ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে আড়াইহাজারের ইউএনও মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘আমরা এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সমিতির নিবন্ধন বাতিল হবে। গ্রাহকদের পাওনা আদায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সুফিয়া বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য পড়ুন 0