নারায়ণগঞ্জে ছুটির দিনে টিকা নিতে মানুষের ভিড়
নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকা নিতে আজ শুক্রবার ছুটির দিনেও টিকাকেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে টিকা নিতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ টিকাদানকেন্দ্রগুলোয় ভিড় করেন।
তবে ঘোষণা ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে টিকাদান বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে। ফিরে যেতে হয়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক নারী-পুরুষকে। তাঁদের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওতাধীন কেন্দ্রগুলো থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এদিনও উপজেলা পরিষদে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে টিকা নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ভিড় করেন। তবে সেখানে টিকাদান বন্ধ রাখায় তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাঁদের ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
কাশিপুর এলাকার গৃহিণী আমেনা বেগম বলেন, আজ ছুটি থাকায় সকালে টিকা নিতে উপজেলা পরিষদে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন, সেখানে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদের কেন্দ্রগুলো থেকে টিকা নিতে বলা হয়েছে।
সোহেল আরমান পোশাককারখানার শ্রমিক। তিনি শহরের শিবু মার্কেট এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন। টিকা নিতে এসে দেখেন উপজেলা পরিষদে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে টিকা নিতে যেতে হয় তাঁকে। সোহেল আরমান বলেন, আগে থেকে জানানো হলে এ ভোগান্তি পোহাতে হতো না। তাঁদের মতো অনেককেই ফেরত যেতে হয়েছে।
এদিকে ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে টিকা নিতে ভিড় করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। ছয় লাইনে পৃথক নারী-পুরুষ টিকার জন্য দাঁড়িয়েছেন। সেখানে ৪টি বুথে ১২ স্বাস্থ্যকর্মী একযোগে টিকা দিচ্ছেন। সেখানে হ্যান্ডমাইকে স্বেচ্ছাসেবীরা ঘোষণা দিচ্ছিলেন, ‘আতঙ্কিত হবেন না, ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজ টিকা নিতে পারবেন।’
টিকা নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজল হোসেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদে গিয়ে টিকা নিতে না পেরে পাইলট স্কুলে এসেছি। এখানে মানুষের লম্বা লাইন। তাই দেড় ঘণ্টা লাইনে টিকা নিতে অপেক্ষায় আছি।’
পোশাক কারখানার মেশিন অপারেটর মেহেজাবিন আক্তার বলেন, ‘বন্ধের দিন বাড়িতে নানা কাজ থাকে। কিন্তু টিকাও নেওয়া জরুরি। তাই বাসার কাজ ফেলেই সকাল সাড়ে ১০টায় টিকা নিতে এসেছি। দুপুর ১২টায় এখনো টিকা নিতে পারিনি।’
দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী মরিয়ম আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি বুথে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকা প্রদান করছেন। এ স্কুলে তাঁদের চারটি বুথ রয়েছে। কোনো ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ টিকা নিতে পারছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনিক বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা পরিষদে আজ টিকা দেওয়া হচ্ছে না। সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। যাঁরা এখানে চলে আসছেন, তাঁদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিকা নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, কাল আবার উপজেলা পরিষদে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে।
এদিকে নগরের জিমখানা এলাকায় আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামেও টিকা নিতে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় করতে দেখা গেছে। সেখানে আটটি বুথে নারী ও পুরুষদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন আ ফ ম মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সিটি এলাকায় ৮০টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক উপজেলার ইউনিয়নের আওতাধীন কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আজ বন্ধের দিন যাঁরা লাইনে থাকবেন, তাঁদের সবাইকে টিকা প্রদান করতে বলা হয়েছে। কাল ২১৩টি টিকাকেন্দ্রে একযোগে টিকা দেওয়া হবে।