আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ওই কিশোরীর মা ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার আসামি মো. শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ওই কিশোরী আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই কিশোরীর ছোট ভাই শাহাদাৎ হোসেনের নুরানি হেফজখানায় থেকে পড়ালেখা করত। ভাইকে খাবার দিতে প্রায়ই সেখানে যাতায়াত করত ওই কিশোরী। সেখানেই একদিন ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন শাহাদাৎ হোসেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায় ওই কিশোরী। পরে কিশোরীর পরিবারের লোকজন ইমামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আর কখনো এ ধরনের কথা বলবেন না বলে তাঁদের জানান। ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই কিশোরী খাবার কিনতে শহরের জামতলা এলাকায় যায়। পথে শাহাদাৎ হোসেন তাকে ফুসলিয়ে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার নেওয়াজ মঞ্জিল নামের একটি বাসায় নিয়ে যান। এরপর সেখানে তাকে আটকে রাখেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ১৯ এপ্রিল ওই কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে ফিরে পরিবারকে ঘটনা জানায় ওই কিশোরী।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান বলেন, ওই কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল তার পরিবার। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে সে বাড়িতে ফিরে আসে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার আসামি শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন