default-image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ইলিয়াস হোসেন (৪৫) নামের এক সাংবাদিককে হত্যা করেছে। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে উপজেলার আদমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইলিয়াস হোসেন বন্দর উপজেলার জিওধারা চৌরাস্তা এলাকার মজিবর মিয়ার ছেলে। তিনি দৈনিক বিজয়–এর নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন।
বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহিদুউল্লাহ্ জানান, উপজেলার আদমপুর এলাকায় গতকাল রাত আটটার দিকে কে বা কারা ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শহরের মণ্ডলপাড়ায় অবস্থিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক সাব্বির আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, ইলিয়াস তাঁদের পত্রিকায় নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে স্থানীয় বাসিন্দা তুষারের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এর আগেও তুষারের নেতৃত্বে ইলিয়াস হোসেনকে মারধর করা হয়। ওই মারধরের ঘটনায় থানায় একাধিক জিডিও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাব্বির আহমেদ আরও বলেন, ইলিয়াস হোসেন বাড়িতে ছিলেন। রাতে বাড়ির পাশে দোকানে চা খেতে গেলে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের প্রথম স্ত্রী বিলকিস আক্তার প্রথম আলোকে জানান, ‘আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে তাঁকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ছুরিকাঘাত করে ওই সংবাদকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রক্তমাখা ছুরিসহ তুষার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে চারজন জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। অপর তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্যাসের লাইন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0