default-image

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপনির্বাচন জমে উঠেছে। পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে ইউনিয়নের হাটবাজার, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোতে আলোচনা–সমালোচনা চলছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের তৎপরতা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন প্রার্থীরা। বসে নেই কর্মী-সমর্থকেরাও।
 
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে ২০ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। এখানে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দেলওয়ার হোসেন নৌকা প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিকরুল হক আনারস প্রতীক ও খায়রুল ইসলাম চশমা প্রতীক। এ ছাড়া চেয়ারম্যান পদে চারজনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে রুবিনা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রতীক হচ্ছে লাঙ্গল। তিনি জাপা সমর্থিত প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন
default-image

আজ শনিবার সকালে দোয়ালীপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন রুবিনা বেগম। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত চার বছরে আমার স্বামী এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। চুরি, ডাকাতি বন্ধ করেছে। তিন মাস আগে তিনি মারা গেছেন। তাঁর কিছু অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্যই এবার আমি প্রার্থী হয়েছি। জনগণ নির্বাচিত করলে সে সব কাজ শেষ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নারীরাই আমার ভোটব্যাংক। একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে এলাকার নারী ভোটাররা আমাকে ভুলে যাবেন না। তাঁরা আমাকে কথাও দিচ্ছেন। আমার ভোট লুকিয়ে আছে, নারীদের মনে মনে। তাঁরা এর প্রতিফলন ঘটাবেন ভোটের দিন।’
ওই দিন শেরমস্ত গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলওয়ার হোসেন ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ইউপি সদস্য হিসেবে আমি একটি ওয়ার্ডের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। এবার পুরো আলমপুর ইউনিয়নকে আলোকিত ইউনিয়ন গড়তে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে পরিকল্পনা করে আলোকিত ইউনিয়ন গড়ব। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করব। অসহায়–গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াব। ভিজিএফ, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা সঠিকভাবে বিতরণ করব।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এই শেরমস্ত গ্রামে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গেও কথা হয়। এ সময় তাঁরা বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা কাজ করছে। আমরা প্রার্থীদের সবকিছু দেখেশুনেই ভোট দেব। আমরা যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে চাই, যাঁর দ্বারা এলাকার উন্নয়ন হবে।’ এ সময় গৃহবধূ আয়না খাতুন বলেন, ‘এবার আমি স্বামীর কথায় ভোট দেব না। দেখেশুনে ভোট দেব। যে এলাকার উন্নয়ন করতে পারবে, আমি তার মার্কায় সিল মারব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিকরুল হককে দেখা গেল ঠাকুরপাড়া গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে। তিনি ভোটারদের বলছেন, ‘ছয় মাসের জন্য সুযোগ দেন, আলমপুর ইউনিয়নের চিত্র বদলে দেব। মাদক ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করব। অসহায় মানুষের পাশে থাকব।’
এই ঠাকুরপাড়া গ্রামের রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘এবার চা–বিড়ি খেয়ে ভোট দিব না। দেখেশুনে ভোট দেব। যিনি গরিবের উপকার করবেন, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে ঘুষ নেবেন না, তাঁকেই ভোট দেব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী খায়রুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শান্তি ও সুখী-সমৃদ্ধ আলমপুর ইউনিয়ন গড়াই আমার মূল লক্ষ্য। জনসেবা ভালো লাগে বলেই এলাকাবাসীর টানে প্রার্থী হয়েছি।’

মন্তব্য পড়ুন 0