default-image

২১ বছর আগে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া জায়গায় শুরু করা নার্সারিটির পরিধি ও আয় বেড়েছে অনেক। ফলজ, বনজ, ওষধি কিংবা সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সব ধরনের চারাই আছে সেখানে। একটি নার্সারি দিয়ে শুরু, বর্তমানে নার্সারির সংখ্যা পাঁচ। নার্সারি করেই ভাগ্য বদলে ফেলেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিল্লাল সিকদার ও তাঁর ছেলে মো. আল-আমিন।

নার্সারির নামকরণ করা হয়েছে জননী। এই নার্সারি থেকে প্রতি মাসে গড়ে আড়াই লাখ টাকার গাছের চারা ও বীজ বিক্রি করে বাবা-ছেলের এখন মাসিক আয় ৬০ হাজার টাকা। শখের বশে নার্সারি তৈরি করা হলেও বর্তমানে তা রুটিরুজির অবলম্বন। স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ের নিয়ে বিল্লাল সিকদারের সংসার।

জননী নার্সারির চারা ও বীজের সুনাম নিজ এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নার্সারিতে এসে অনেকেই নার্সারি তৈরির পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে যান। শ্রীমঙ্গলের পৌর শহরতলীর রেলগেট, শ্যামলী ও বিরাইমপুরে প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে পাঁচটি নার্সারিতে নিয়োজিত প্রায় ২০ জন শ্রমিক। বাবা–ছেলের সঙ্গে শ্রমিকেরাও নার্সারি থেকে রোজগার করে সংসার চালাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

কথা হয় নার্সারির পরিচালক মো. আল-আমিনের সঙ্গে। তিনি জননী নার্সারির পরিচালনার পাশাপাশি আনসার ভিডিপির শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেতা হিসেবেও কাজ করছেন। আল-আমিন বলেন, তাঁর বাবা বিল্লাল সিকদার বন বিভাগের লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাঁদের সঙ্গে থাকতে থাকতে গাছের প্রতি বাবার ভালোবাসা জন্ম নেয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ সালের দিকে শখের বশে সামান্য জায়গা ভাড়া নিয়ে খুব ছোট পরিসরে একটি নার্সারি করেন বাবা। তখন তাঁর মূলধন ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়েই বীজ ও গাছ কিনে নার্সারি শুরু করেন। এর কিছুদিন পরই সেই জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। এতে তাঁর বাবাকে লোকসান গুনতে হয়। তবু হাল ছাড়েননি। কয়েক দফায় নার্সারির স্থান বদল করতে হয়েছে। পরে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে বৃহৎ পরিসরে বাবা-ছেলে একসঙ্গে নার্সারি জন্য কাজ করতে থাকেন। আর এতেই এসেছে সাফল্য।

আল-আমিন বলেন, নার্সারি থেকে এখন প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকার গাছের চারা ও বীজ বিক্রি করা হয়। সব খরচ মিটিয়ে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মুনাফা থাকে।

এখন মানুষ খুব শৌখিন বলে জানালেন আল–আমিন। বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনে অনেকেই বাহারি গাছ লাগান। তাঁদের নার্সারি থেকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বন বিভাগের লোকেরা চারা সংগ্রহ করে থাকেন। ভারত ও চীন বিভিন্ন গাছের বীজ কিনে চারাও তাঁরা তৈরি করছেন।

নার্সারির স্বত্বাধিকারী বিল্লাল সিকদার বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি ক্যাটাগরিতে সিলেট বিভাগ থেকে ‘জাতীয় পুরস্কার ২০০৮’–এ তাঁর নার্সারি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তাঁর ভাষ্য, নার্সারি ব্যবসা লাভজনক হলেও ভালো প্রশিক্ষণ না থাকলে এ ব্যবসায় আসা ঠিক নয়। নার্সারিতে প্রচুর সময় দিতে হয়। আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চারা বাঁচিয়ে রাখতে হয়। একটি বীজ থেকে চারা তৈরিতে প্রচুর শ্রম লাগে। যাঁরা প্রচুর শ্রম ও ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা রাখেন, তাঁরাই এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন