নালাই নেই, তবু রাস্তা খুঁড়ে হচ্ছে দুটি কালভার্ট

এখানে কোনো খাল বা নালা নেই। তবু রাস্তা খুঁড়ে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে দুটি কালভার্ট। সম্প্রতি পাবনা সদরের কুলাদি জামতলা বাজার এলাকায়
এখানে কোনো খাল বা নালা নেই। তবু রাস্তা খুঁড়ে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে দুটি কালভার্ট। সম্প্রতি পাবনা সদরের কুলাদি জামতলা বাজার এলাকায়সরোয়ার মোর্শেদ
বিজ্ঞাপন

সড়কের ডান পাশে রহিম মোল্লার বাড়ি। বাঁ পাশে আজম মোল্লার। মাঝ দিয়ে চলে গেছে পাবনা-সুজানগর আঞ্চলিক সড়ক। এ সড়কেই দুই পাশে ওই দুটি বাড়ির দিকে মুখ করে রাস্তা খুঁড়ে তৈরি হচ্ছে দুটি বক্স কালভার্ট। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের কুলাদি জামতলা বাজার এলাকায় আঞ্চলিক এই সড়কে কালভার্ট দুটি তৈরি করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী বলছেন, এখানে কোনো খাল বা নালাই নেই। প্রায় ৪০ বছর ধরে এলাকায় পানির দেখা নেই। এরপর এত টাকা ব্যয়ে কেন কালভার্ট দুটি তৈরি করা হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগে সড়কের ওই স্থানে দুটি কালভার্ট ছিল। কালভার্ট দুটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দুটি কালভার্ট তৈরি করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের ইউনিসুন অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। তবে তাদের হয়ে নির্মাণকাজটি করছে দেলোয়ার হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শত বছর আগে সড়কের ওই স্থান দিয়ে একটি নালার মতো ছিল বলে তাঁরা শুনেছেন। নালাটি দিয়ে দুই পাশের দুটি বিলে বৃষ্টির পানির প্রবাহ হতো। আঞ্চলিক সড়কটি নির্মাণের সময় সেখানে দুটি কালভার্ট দেওয়া হয়েছিল। পরে পলি জমে নালাটি বন্ধ হয়ে গেছে। সবশেষ ১৯৮০ সালে পুরোনো কালভার্ট দুটি দিয়ে বৃষ্টির পানি বেড় হতে দেখা গেছে। এরপর থেকে বর্ষাকাল বা বৃষ্টি কোনো কিছুতেই আর ওই কালভার্ট দিয়ে পানি বের হতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া বর্তমানে কালভার্টের দুই দিকে বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। এখন আর পানিপ্রবাহের কোনো সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মোল্লা (৭৫) জানান, দীর্ঘদিন সড়কে জোড়া দুটি কালভার্ট থাকলেও সেখান দিয়ে তিনি কখনো পানিপ্রবাহ দেখেননি। ১৯৮০ সালে টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হয়েছিল। তখন তিনি কালভার্ট দিয়ে বৃষ্টির পানি যেতে দেখেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আকবর মোল্লা (৭২) নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাগের জীবনে তো হেনে কুনু দিন পানি দেহি নেই। তাউ কালভার্ট কী জন্যি হতেছে, সিডাই বুঝতেছিনে। সরকার মনে কয় টাহা খরচের জাগা পাচ্ছে না। তাই কালভার্ট বানাতেছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান বলেন, নতুন কালভার্ট দুটি নির্মাণ দেখে এলাকার প্রত্যেকটি মানুষ অবাক হয়েছে। পানি নেই অথচ জোড়া কালভার্ট হচ্ছে। এটা সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা বলেন, অর্থ অপচয় নয়, প্রয়োজন আছে, এ জন্যই দুটি কালভার্ট তৈরি করা হচ্ছে। দুই পাশের জলাধার প্রবাহের জন্য আগে থেকেই ওখানে দুটি কালভার্ট ছিল। একটি দিয়ে দুই পাশের দুই পুকুরে ও অপরটি দিয়ে দুই পাশের বিলে পানির প্রবাহ হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন