নালায় বেকারির 'কারখানা'

বিজ্ঞাপন
default-image

নালাজুড়ে দখলযজ্ঞ। বাসাবাড়ির বর্ধিত অংশ; আবার সীমানাপ্রাচীরও আছে। এর মধ্যে পাকা দেয়ালঘেরা একটি ঘর। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল, ঘরটি মিষ্টান্ন ও বেকারি খাবার প্রস্তুতকারী একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের। সিটি করপোরেশনের নালাকে ব্যবহার করে খাবার তৈরির ‘কারখানা’টি তৈরি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নালার অংশ বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ডও হয়।

গতকাল সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা অংশের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে এভাবেই উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। নালা দখল করে বানানো ঘরটি ‘রাজমহল’ নামের একটি বেকারি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সিটি করপোরেশনের নালা অবৈধভাবে ব্যবহার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচলে অরাজকতা বন্ধে মহানগর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সপ্তাহব্যাপী অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার শিববাড়িতে ওই অভিযান চালানো হয়। ‘রাজমহল’ নামের মিষ্টান্ন ও বেকারি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটির একটি অংশ পড়েছে সিটি করপোরেশনের নালার ওপর। এই নালা ব্যবহার করে বেকারি পণ্য তৈরির চুলাসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নালার ওপর ঘর নির্মাণকারী ব্যক্তির নাম উস্তার আলী। তিনি ওই এলাকায় ২০১৭ সালে আলোচিত জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো বাড়ি আতিয়া মহলের মালিক। নালার এক পাশে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক। এ জন্য সওজ সিলেটের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন সিটি মেয়র। জায়গাটি সওজের চিহ্নিত হলে পরে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নালার অংশ চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজমহলকে অর্থদণ্ড দেন। পরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় বুলডোজার ও খননযন্ত্র দিয়ে অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। রাজমহলের কারখানা ঘরটি আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফার অভিযানে উচ্ছেদ করা হবে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উস্তার আলী স্বীকার করেন, নালাটি অনেকটা উন্মুক্ত থাকায় রাজমহলের পণ্য উৎপাদনের একটি কক্ষ সেখানে ছিল। তবে সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা পেয়ে তিনি উচ্ছেদকাজে কোনো বাধা দেননি। বরং সহায়তাই করেছেন।

গতকাল ওই এলাকায় দিনভর চলা অভিযানে মেয়রের সঙ্গে ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজম খান ও তৌফিক বক্স, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) নিকুলিন চাকমাসহ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মী ও দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ সদস্যরা।

আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় ওই এলাকায় অভিযান চালানো হবে জানিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ সুরমা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে সিলেট নগরে প্রবেশের একটি মুখ। এ এলাকা যদি যত্রতত্র দখল ও যানবাহন চলাচলে অরাজক অবস্থার মধ্যে থাকে, তাহলে সিলেট নগরে আসা মানুষজন প্রথমেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়বে। সিটি করপোরেশন তাই নগরের প্রবেশমুখের এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করতে সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন