বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বেলা একটার দিকে রাস্তার পাশে উত্তর লক্ষণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল হঠাৎ শ্রমিকদের ওপর ধসে পড়ে। এতে হৃদয়, মিম ও দুলালী দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা হৃদয় ও দুলালীকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহেদা বেগম জানান, সকাল থেকে তাঁরা ১০ জন শ্রমিক নালা নির্মাণের কাজ করছিলেন। হঠাৎ তাঁদের ওপর স্কুলের একটি দেয়াল ধসে পড়ে।
নিহত দুলালী বেগমের স্বামী আলতাফ হোসেন জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুলালী একসঙ্গে কাজ করছিলেন। দুপুরে কাজ করার সময় তাঁর স্ত্রী দেয়াল চাপা পড়েন। তাঁদের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাট লক্ষ্মীপুর গ্রামে। উত্তর লক্ষণখোলা এলাকায় তাঁরা থাকতেন।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, নালা নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় একটি স্কুলের দেয়াল হঠাৎ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় তিন শ্রমিককে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নালা নির্মাণ করার সময় স্কুলের পুরোনো একটি দেয়াল হঠাৎ ধসে পড়ে তিন শ্রমিক আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, দেয়াল ধসে আহত তিন শ্রমিকের মধ্যে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। অন্য শ্রমিক চিকিৎসাধীন।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা গাফিলতির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিপা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. রাসেল বলেন, তাঁর ঠিকাদারি লাইসেন্স দিয়ে ৩০০ ফুট দীর্ঘ নালার কাজ করছিলেন আরেক ঠিকাদার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের ছোট ভাই আকিল। দুপুরে হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়ে। কেউ তো ইচ্ছাকৃত এ ঘটনা ঘটায়নি। এটি একটি দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে জানতে আকিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন