পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে মোশাররফ ও দুলাল শহরের নয়ানিকান্দা হাটে গরু বিক্রি করতে যান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাঁরা গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁদের গরুবোঝাই ভটভটটি নিচপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হাতিপাগার বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার হায়দার আলী ও ল্যান্সনায়েক মামুন মিয়া সাদাপোশাকে ওই ভটভটির পথরোধের চেষ্টা করেন। ভটভটি না থামালে সুবেদার হায়দার গুলি ছুড়বেন বলে হুমকি দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত এসএমজি রাইফেল থেকে পরপর দুটি গুলি বের হয়ে যায়। এতে ল্যান্সনায়েক মামুন মিয়া এবং দুলাল ও মোশাররফ আহত হন।

এদিকে গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে সুবেদার হায়দার আলীকে আটকে রেখে নালিতাবাড়ী থানায় খবর দেন। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ ও রামচন্দ্রকুড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে বিজিবি ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দীনও ঘটনাস্থলে আসেন। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নাসির উদ্দীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে বিচারের আশ্বাস দেন।

ওসি বছির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাই গরু সন্দেহে ওই দুই গরু ব্যবসায়ীকে গরুসহ বিজিবির সদস্যরা আটক করেছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত এসএমজি রাইফেল থেকে দুটি গুলি বের হলে এক বিজিবি সদস্য ও দুই গরু ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ বিজিবির সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দীন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন