বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নালিতাবাড়ীর ১০ ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা বিএনপির দুই অনুষ্ঠানই বর্জন করেন। পরে ক্ষুব্ধ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ২ সেপ্টেম্বর আলাদা করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন।

এরপর ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নুরল আমিন একাংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নালিতাবাড়ী বাজারে এবং ইউনুস আলী দেওয়ান আরেক অংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহরের শহীদ মিনারে দলীয় কার্যালয়ে পৃথক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।

এতে নালিতাবাড়ীর ১০ ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা বিএনপির দুই অনুষ্ঠানই বর্জন করেন। পরে ক্ষুব্ধ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ২ সেপ্টেম্বর আলাদা করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। উপজেলা বিএনপির মধ্যে এমন বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ায় তৃণমূলের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সমর্থক বলেন, এখন আওয়ামী লীগের আমল চলছে। কোথায় বিএনপির সবাই এককাট্টা হয়ে দলীয়ভাবে কাজ করবেন। কিন্তু তাঁরা তা না করে নিজেদের আখের গোছাতে দলে বিভাজন সৃষ্টি করছেন।

সম্প্রতি হালুয়াঘাট উপজেলার চাঁদশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নেতা ইলিয়াস খান উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব নিতে আহ্বায়ক নুরল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সাবেক সাংসদ ও হুইপ জাহেদ আলীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহিম চৌধুরী এ এলাকায় নেতৃত্বে আসেন। তবে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এ সময় জাহেদ আলীর স্ত্রী ফরিদা পারভীন চৌধুরী দলটির দেখভালের দায়িত্বে আসেন। এরপর ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরল আমিনকে আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে সম্প্রতি হালুয়াঘাট উপজেলার চাঁদশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নেতা ইলিয়াস খান উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব নিতে আহ্বায়ক নুরল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী ইলিয়াসের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে একাংশের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি নেতা নুরল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফাহিম চৌধুরী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। মূলত দলকে গুছিয়ে নিতেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইলিয়াস খানের নেতৃত্বে আমরা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিষয়টি জেলা বিএনপিও জানে।’

এ বিষয়ে দলের অপর অংশের নেতা ইউনুস আলী দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফাহিম চৌধুরী রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় তাঁর মা ফরিদা চৌধুরী দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখেন। কেউ বিভক্তি সৃষ্টি করলে তো আমাদের করার কিছু নেই। আমরা উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সব নেতা-কর্মী একসঙ্গে আছি। দলের বিভিন্ন কার্যক্রম দলীয় কার্যালয়েই পালন করা হচ্ছে।’

দলের বিভক্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপির সব কার্যক্রম আমরা বর্জন করেছি। ইউনিয়ন বিএনপি এখন আলাদাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলের বিভক্তি নিরসনে জেলা বিএনপির দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, বিভক্তির বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে অহেতুকভাবে এই বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি অবগত করে দলে সমন্বয় ফেরাতে উপজেলা বিএনপিকে নিয়ে দ্রুত বসা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন