নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. সাইদুর রহমান বলেন, হাতি নিয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। হাতিটিকে বন বিভাগের জিম্মায় ইকোপার্কে রাখা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে শেরপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে হাতির মালিকের কাছ থেকে উপজেলার বনকুড়া গ্রামের আবদুর রব ছয় বছর বয়সী একটি হাতির শাবক নিয়ে আসেন। শাবকটি এলাকায় এনে বাজারে বাজারে গিয়ে চাঁদা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুই দিন আগে কে বা কারা হাতির ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। পোস্টে শাবকটি বন্য হাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসার পর আজ বেলা ১১টার দিকে বনকুড়া এলাকায় গিয়ে হাতিটির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান শেরপুর বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা সুমন সরকার ও সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুরুল আলম, মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জার আবদুল করিমসহ বন বিভাগের লোকজন। তখন হাতির মালিক আবদুর রব কোনো কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। এ সময় হাতিসহ আবদুর রবকে আটক করে নালিতাবাড়ী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে রেঞ্জার মনজুরুল আলম বাদী হয়ে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ৩২(১)ক এবং ২৪(১)/৪০ ধারায় থানায় মামলা করেন।

মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জার আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে বাজারে চাঁদা তোলার উদ্দেশ্যে ১০-১২ দিন আগে সার্কাস থেকে একটি হাতির শাবক নিয়ে আসা হয়। বন্য হাতি আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে কে বা কারা ফেসবুকে ছবি ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে। আজ অভিযান চালিয়ে হাতি ও ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাতিটি তাঁদের জিম্মায় আছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. মনজুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, হাতি লালনপালনের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি ওই ব্যক্তি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া হাতিটি বন বিভাগের জিম্মায় আছে। তবে এটি বন্য হাতি নয়। সার্কাসের হাতি। কে বা কারা দুষ্টুমি করে হয়তো ফেসবুকে ছবি দিয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন