বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করা সদস্যসচিব মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে দলীয় পরিবারের সদস্যকে খুনের মামলার আসামি, আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট এবং ১০ বছর ধরে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বিতর্কিত মীর মোস্তফা জালালকে আহ্বায়ক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কমিটিতে খুনের মামলার আসামি, আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট এবং ১০ বছর ধরে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বিতর্কিত মীর মোস্তফা জালালকে আহ্বায়ক করা হয়।

নাসির উদ্দিন বলেন, উপজেলা বিএনপির নেতাদের মতামতকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। মোস্তফাকে আহ্বায়কের পদ থেকে ৭ দিনের মধ্যে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ২০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ১০ দিন পার হলেও তাঁরা বিষয়টির কোনো সুরাহা করেননি। তাই ৩১ সদস্যের কমিটি থেকে ২৫ জন পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগকারী সাত যুগ্ম আহ্বায়ক ও তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আজদু মিয়ার ভাইকে হত্যার করা হয়। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর মীর মোস্তফা জালালকে ২ নম্বর আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেলা কারাগারে ছিলেন। মামলাটি বিচারাধীন। মোস্তফা আওয়ামী লীগের পরিবারের সদস্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা-কর্মী বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে মীর মোস্তফা জালাল বলেন, ‘আমি নাসিরনগর উপজেলা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলাম। তাহলে আমি নিষ্ক্রিয় হলাম কীভাবে? ১০ বছর ধরে থাকা উপজেলা যুবদলের কমিটি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। আর ২০২০ সালে আপস-মীমাংসার ভিত্তিতে ওই মামলা থেকে আমিসহ ৫৬ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।’

মীর মোস্তফা জালাল আরও বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে থাকা নয়জন ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে একরামুজ্জামানের পরিবারের মালিকানাধীন আরএকে সিরামিকস ও স্টার সিরামিকসের কর্মচারী। এ কে একরামুজ্জামান নিজের মতো করে একটি কমিটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর করা কমিটি ও পছন্দের আহ্বায়ককে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ জন্য তিনি আমার বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কোম্পানিতে কর্মরত কোনো লোক দিয়ে যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়নি। যাঁরা এসব ছড়ান, তাঁরা দলের ভালো চান না। যে কমিটির ২৫ জন সদস্য আহ্বায়ককে চান না, তিনি দল চালাবেন কী করে।’

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ বলেন, ‘নাসিরনগরে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, আহ্বায়ক নিয়ে দ্বন্দ্ব। বিষয়টি আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন