default-image

নিখোঁজের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ঢাকার নবাবগঞ্জে এনজিওর দুই কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম (২৯) ও অভিজিত কুমার মালোর (২৮) মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে আজ মঙ্গলবার দুজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ঢাকা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশ ও নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় লাশ দুটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ইউসুফ হোসেন (৩২), জনি মিয়া (২৫) ও মনির মিয়া (৩০) নামের তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আজ দুপুরে নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ আটক ইউসুফ ও মনিরকে ঢাকা জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর নবাবগঞ্জ উপজেলার সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (এসডিসি) চুড়াইন তালতলা শাখার মাঠ কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম নিখোঁজ হন। এরপর গত ১৬ মার্চ এই এনজিওর আরেক কর্মকর্তা অভিজিত কুমার মালো নিখোঁজ হন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গত রোববার ঢাকা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে জনি মিয়া (২৫) নামের একজনকে আটক করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউসুফ হোসেন ও মনিরকে আটক করে পুলিশ। আটক ইউসুফ ও মনির জিজ্ঞাসাবাদে দুজনকে হত্যার পর লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে দুর্গাপুর এলাকার মুরগির খামারের পেছনে থেকে মাটিচাপা অবস্থায় নিখোঁজ দুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসডিসির অঞ্চল ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংস্থার কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম নিখোঁজের ঘটনায় মামলা করি। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। এরপর সংস্থার আরেক কর্মকর্তা গুম হলে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটক করে।’

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এনজিওর দুই কর্মকর্তাকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ ও নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটি খতিয়ে হচ্ছে।

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ-দক্ষিণ) হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, এসডিসি এনজিও থেকে আটক ইউসুফের স্ত্রী ঋণ নেন। এনজিওর কর্মকর্তারা ওই টাকা পরিশোধ করতে চাপ দিলে তাঁরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রথমে রাজিবুলকে ডেকে টাকা দেওয়ার কথা বলে হত্যা করেন। এরপর অভিজিতকেও একই কায়দায় ডেকে হত্যা করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন