নিহত হাসিবুর রহমানের বাড়ি পুঠিয়ার বেলপুকুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সাহাদ আলী। হাসিবুর বেলপুকুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

হাসিবুরের বাবা সাহাদ আলী জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বুধবার হাসিবুর বন্ধুদের সঙ্গে নাটোরের লালপুরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে বেড়াতে যান। বাড়ি ফিরে সন্ধ্যায় মোবাইলে গেমস খেলার কথা বলে পাড়ার মোড়ে যান। রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ফেরার কথা বলে গেলেও ওই রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। গত বৃহস্পতিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাঁর সন্ধান না পেয়ে বেলপুকুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সাহাদ আলী বলেন, যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে আগেও খোঁজা হয়েছে। লাশ দেখা যায়নি। তাঁর ছেলেকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় দিন সন্ধ্যায় পাড়ার মোড়ে বসে হাসিবুর মুঠোফোনে ‘ফ্রি ফায়ার’ নামের একটি গেমস খেলতেন। কারণ, সেখানে মোবাইলের ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। শুক্রবার সকালে হাসিবুরের মা ও খালা ছেলের খোঁজে বের হন। একপর্যায়ে বেলপুকুর রেলগেটের পূর্ব পাশে সিগন্যাল পাখার সামনে হাসিবুরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বেলপুকুর থানার পুলিশকে খবর দেন।

বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ছেলেটির দুই হাতে কাটাছেঁড়ার দাগ রয়েছে। মাথার এক পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল রেলওয়ের হওয়ায় রেলওয়ে ঈশ্বরদী থানায় এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। তারা লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। এটা হত্যাকাণ্ড কি না, তা রেলওয়ে থানার পুলিশ তদন্ত করে বলতে পারবে।

জানতে চাইলে শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপাল কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে আছেন। এখনো তাঁদের তদন্ত শেষ হয়নি। এটি হত্যাকাণ্ড কি না, এ বিষয়ে পরে বলতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন