বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নার্গিস আক্তারের স্বামী আবুল হোসেন ব্যাপারী মারা যান। এর পর থেকে নার্গিস আক্তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাঁর বাবার বাড়ি জাজিরা উপজেলার নাওডোবা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। কয়েক দিন ধরে নার্গিসের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বাড়ির জমিজমা ভাগাভাগি নিয়ে দেবর ও ভাশুরদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে বুধবার সকালে নার্গিস আক্তার তাঁর মেয়েকে দিয়ে ভাতিজা কুতুবউদ্দিনকে ডেকে নিয়ে গুম করেন। এর পর থেকে কুতুবউদ্দিনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ঘটনায় কুতুবউদ্দিনের বাবা ইসমাইল ব্যাপারী বাদী হয়ে বুধবার বিকেলে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শিবচর থানা-পুলিশের একটি দল নার্গিস আক্তার ও তাঁর মেয়েকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোরে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ইসমাইল ব্যাপারী আজ দুপুরে নার্গিস আক্তার ও কিশোরী মেয়েকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

নিহত কুতুবউদ্দিনের বাবা ইসমাইল ব্যাপারী বলেন, ‘সম্পত্তির লোভে ওরা আমার বাজানডারে নিষ্ঠুরভাবে মাইরা ফালাইলো। ওরা আগেও ঝগড়ার সময় কইছিল, আমার কোনো বংশ রাখবে না, সেটাই ওরা করল। যারা আমার ছোট পোলাডারে এমন কষ্ট দিয়ে মারল, তাদের আমি ফাঁসি চাই।’

মাদারীপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নার্গিস আক্তার জানিয়েছেন, বুধবারই কুতুবউদ্দিনকে তিনি শ্বাসরোধে হত্যার পর শৌচাগারের মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রেখেছেন। এ তথ্য পেয়ে সেই গর্ত খুঁড়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন