নিখোঁজের পর ডোবায় মিলল এক মাস বয়সী শিশুর লাশ

বিজ্ঞাপন
default-image

নোয়াখালী সদরের একটি ডোবা থেকে এক মাস চার দিন বয়সী এক মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে সুধারাম থানার পুলিশ। শিশুটির নাম জান্নাতুল ফেরদাউস। গতকাল রাতে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি তার মা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর শুল্লুকিয়া গ্রামের জহুরুল হকের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বা কারা তাকে ডোবায় ফেলে রেখে এসেছে, তা বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শিশুটির চর শুল্লুকিয়া গ্রামের আবদুর রহমান ও আকলিমা বেগম দম্পতির সন্তান। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, নিহত শিশুটির বাবা আবদুর রহমান ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। চার দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে ঢাকা গেছেন। গতকাল বুধবার রাতে শিশুটির মা আকলিমা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন, পাশে মেয়ে নেই। তাঁর চিৎকারে শ্বশুর-শাশুড়ি ছুটে এসে এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বসতঘর থেকে পূর্ব দিকে আনুমানিক ১০০ গজ দূরের ডোবার কিনারে শিশুটির লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাঁরা লাশটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশকে শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকে শিশুটি খিঁচুনি রোগে ভুগছে। তা ছাড়া শিশুটির মা আকলিমাও অসুস্থ। দেড় বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছে। তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। এটিই তাঁর প্রথম সন্তান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর নবী জানান, শিশুটি যেহেতু হাঁটতে পারে না, তাই কেউ না কেউ তাকে সেখানে ফেলে এসেছে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকালে শিশুটির দুই কানে সামান্য ক্ষতের দাগ ছাড়া অন্য কোনো আলামত চোখে পড়েনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নবীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটিকে কে বা কারা ডোবায় ফেলেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সেটি বের করার চেষ্টা চলছে। তা ছাড়া ময়নাতদন্ত হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আপাতত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শিশুর বাবা ঢাকা থেকে এলে তিনি মামলা করতে চাইলে করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন