বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সায়মনের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর মামি লিপি আক্তার। তিনি বলেন, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে একই ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করবেন বলে বেরিয়ে যান সায়মন। ওই দিন রাত সাড়ে নয়টায় সায়মনের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় তাঁর মায়ের। এ সময় সায়মন সৈয়দপুর এলাকায় আছেন বলে জানান। সেই সঙ্গে বাড়িতে আসতে দেরি হবে বলে জানান তাঁর মাকে। রাতে আর সায়মন বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন ৩০ অক্টোবর ভোর পাঁচটায় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর থেকে সায়মনের বন্ধু পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করেন তাঁর মাকে। অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি সায়মনকে খুঁজতে সৈয়দপুর এলাকায় আসার জন্য সায়মনের মাকে বলেন। এ বিষয়ে পুলিশকে যেন কিছু না জানানো হয়, সেটি বলে দেন ওই ব্যক্তি। এর পর থেকেই সায়মনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও সায়মনের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর সায়মনের খোঁজ না পেয়ে পরে কালীরবাজার ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার শরণাপন্ন হন পরিবারের সদস্যরা। পরে সবার পরামর্শে ৩ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

মুঠোফোনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সায়মনকে খুঁজতে সৈয়দপুর এলাকায় আসার জন্য সায়মনের মাকে বলেন। এ বিষয়ে পুলিশকে যেন কিছু না জানানো হয়, সেটি বলে দেন ওই ব্যক্তি।

এদিকে আজ সকাল নয়টার দিকে মনশাসন পশ্চিমপাড়া এলাকার এক ব্যক্তি ধানখেতের পাশের একটি ছোট ডোবায় ঘাস ধোয়ার জন্য যান। সেখানে দুর্গন্ধ পেয়ে ডোবায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান তিনি। বস্তাটি ওপরে তুললে মাথার একাংশ, পা ও হাতের কবজির একাংশ দেখতে পান। এরপর তিনি চিত্কার দিয়ে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে ওই স্থান থেকে আরও প্রায় ৫০০ গজ দূরে নির্জন এলাকার ধানখেতের পাশের আরেকটি ডোবায় নাইলনের রশিতে প্যাঁচানো কোমর থেকে নিচের দুই পায়ের আরেকটি অংশ পাওয়া যায়। তবে লাশের মাথার বাকি অংশ ও দুই হাতের কবজির বাকি অংশের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে তখনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম, নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শকসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে ওসি আনওয়ারুল আজিম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহের টুকরা উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়। এরপর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন