বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মঞ্জিলা মিমি আরও বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর রাতে শাওন নামের এক ব্যক্তি মুঠোফোনে তাঁকে জানান, কুমিল্লার হোমনা থানা–পুলিশের ফেসবুক পেজে পরিবারের খোঁজ পেতে যে নারীর ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, ওই নারী তাঁর মা। তাঁর মায়ের নাম সুফিয়া বেগম, বাড়ি নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার পুরান চর এলাকায়। ১০ বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামীর নাম মোহাম্মদ আলম। সুফিয়ার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী।

মায়ের সন্ধানে ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধায় শাওন ও তাঁর ফুফাতো ভাই সিফাত ফেনীতে আসেন। তাঁরা মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে সুফিয়ার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা বলার ব্যবস্থা করেন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের চিনতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সুফিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সোনাগাজী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক ও সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় ছেলে শাওনের কাছে সুফিয়াকে হস্তান্তর করেন সহায়ের সদস্যরা। সংগঠনটির পরিচালনায় থাকা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় পাঠানো হয় সুফিয়াকে। তাঁর চিকিৎসা খরচ বাবদ শাওনের হাতে কিছু টাকাও তুলে দেওয়া হয়। ঢাকায় পৌঁছার পর সেখানে সুফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আলী তাঁকে গ্রহণ করেন। পরে সুফিয়াকে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাওন বলেন, তাঁর মা ২০১১ সাল থেকে নিখোঁজ। ওই বছরই সুফিয়াকে ঢাকার কমলাপুর এলাকায় দেখতে পান তাঁর গ্রামের এক প্রতিবেশী। তাঁরা দুই ভাই তখন খুবই ছোট ছিলেন। নানার বাড়িতে থাকতেন। তাঁরা একটু বড় হওয়ার পর থেকে মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।

ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূঁঞা বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে ও পরিবারে সদস্যদের সঙ্গ পেলে মানসিক ভারসাম্যহীন সুফিয়া বেগম স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।

শাওন বলেন, ‘মাকে হারিয়ে আমরা দুই ভাই খুব হতাশ হয়েছিলাম। এখন সেই হতাশা কাটিয়ে উঠেছি। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মায়ের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা চাই আমরা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন