ওই দলকে বিদায় জানিয়ে থেকে যান মোহাম্মদ রাসেল (৪২)। সড়কে দাঁড়িয়েই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের দিঘলী দত্তপুর গ্রামে। যে তরুণকে সিলেটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো, তিনি তাঁর ভাইয়ের ছেলে। আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। এখন বন্যা চলাকালে আরও অসুস্থ হয়েছেন। হঠাৎই বমি করা শুরু করেছেন। এই কদিন বন্যার পানিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক তলিয়ে থাকায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিলেট পাঠানো সম্ভব হয়নি। এখন পানি কমায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো।

গতকাল সোমবার রাসেলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ভাইয়ের ছেলের অসুস্থতার বিষয়ে কথা বলা শেষে বন্যার ভয়াবহতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভোগ কইয়া শেষ করা যাইত না। গত বুধবার বন্যার পানিতে আমরার বাসার নিচতলা ডুবি গেছে। আইজ পানি নামছে। টানা তিন দিন পরিবারের ১৬ জন সদস্য নিয়া সিঁড়ির মধ্যে আছিলাম। এর মইধ্যে নাই কারেন্টও। এরপরও রক্ষা, ট্যাঙ্কিত পানি তোলা আছিল। সেই পানি একটু একটু কইরা খাইয়া কুনুমতে টিইক্কা ছিলাম।’

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তাঁরা তিন ভাই। যৌথ পরিবার তাঁদের। তিনি একটি অটোরাইস মিলে কাজ করেন। পরিবারে তিনিসহ তিনজন আয় করেন। মূলত তিনজনের আয়ে মোটামুটি স্বচ্ছলভাবেই তাঁদের সংসার চলত। কিন্তু বন্যার পানিতে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। তাঁর কর্মক্ষেত্রে পানি ওঠায় আয়হীন হয়ে পড়েছেন তিনি। এখনো রাইস মিলটিতে পানি আছে। মালিক ক্ষতির মুখে পড়ায় কবে থেকে যে তিনি আবার কাজ শুরু করতে পারবেন, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন তিনি। বন্যার কারণে পরিবারের অন্য দুজনের আয়ও বন্ধ। এদিকে ঘরে পানি উঠে সব জিনিসপত্র আর কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে গেছে।

সিঁড়িতে আটকে পড়া, জীবন বাঁচানোর চিন্তা আর অনিশ্চয়তায় এই কদিন ঘুমাতে পারেননি মোহাম্মদ রাসেল। তাঁর ঘুমহীন ঢুলুঢুল লাল চোখ সে সাক্ষ্য দেয়। রাসেল বলতে থাকেন, ‘সামনের দিন কীভাবে চলব, এই চিন্তায় এখন ঘুম আসে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন